Showing posts with label কোরান ও হাদিছ. Show all posts
Showing posts with label কোরান ও হাদিছ. Show all posts

Friday, January 15, 2016

গ্রামীণফোনে এখন পাচ্ছ ৩০০ MB ইন্টারনেট মাত্র ৪৫ টাকায়।


নতুন বছরের আনন্দে মেতে ওঠো বন্ধুদের সাথে কারন গ্রামীণফোনে এখন পাচ্ছ ৩০০ MB ইন্টারনেট মাত্র ৪৫ টাকায় (৩% সম্পূরক শুল্ক এবং সম্পূরক শুল্কসহ উল্লিখিত মূল্যের উপর ১৫% ভ্যাট প্রযোজ্য) যার মেয়াদ ৭ দিন। অফারটি পেতে ডায়াল *5000*150# & start enjoying!
বিস্তারিত জানতে কল ১২১

Wednesday, January 13, 2016

ওয়াহ্যাবি মতবাদ কি ও কারা

আমাদের দেশে প্রায় শোনা যায় ওয়াহ্যাবি(ওয়াহাবি) মুসলমানের কথা।আমাদের দেশের বিশেষ এক শ্রেণীর কওমী আলেমদেরকে এক শ্রেণীর আলেম ও তাদের অনুসারী সাধারন মুসলমানরা ওয়াহাবী বলে।আর এক শ্রেনীর আলেম নিজেদেরকে সুন্নি বলে পরিচয় দেয়।প্রথমে আমরা জানার চেষটা করি সুন্নি কথাটার অর্থ কি।সাধারন ভাবে বলতে গেলে যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ সুন্নত মেনে চলেন তারাই সুন্নি।


আসল ওয়াহাবি কে এবং কারা?


মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করে।সে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী ছিল ।সে আহলুসসুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত এবং তার নিজ আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার মুসলমানদের কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করত। ভিন্ন আকিদার মুসলমানদের মাল ধন সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়াকে হালাল ও তাদের হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ বলে ফতো্যা দিত।এই ওয়াহাবীরা তৎকালীন আমলে দলে এত ভারী ছিল যে তাদের হাতে হাজার হাজার খাটি মুসলমান শহিদ হয়েছিল।তাদের অত্যাচারে তৎকালীন সময়ে মক্কা মদিনার অনেক মুসলমান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।সেই থেকে আরব দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে ওয়াহাবী ও তার অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করা হয় ও ঘৃনা চোখে দেখা হয়।

ওয়াহাবীদের আকিদা বা মুলনীতি।


১/ওয়াহাবীরা এই আকিদা পোষন করে যে নবী রসুল গনের জীবন শুধু মাত্র ইহকাল পর্যন্ত সীমিত মৃত্যুর পর ওনারা অন্যান্য সাধারন মুসলমানদের মত কবরে বিলীন হয়ে যায়।(নাউযুবিল্লাহ)

তারা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে যা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব।



২/ওরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে নিজেদের সমকক্ষ মনে করে।নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুধু মাত্র তাবলীগের কাজে পাঠানো হয়েছে।(নাউযুবিল্লাহ)



৩/নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের রওজা মোবারক জিয়ারত করাকে বিদাআত ও হারাম বলে মনে করে।



৪/ এরা রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে গায়েবী সালাম আস্সালাতু আস্সালামু আলাইকা বলা কে শিরক ও হারাম মনে করে।



৫/এরা মনে করে নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কেবল শরিয়তী ইলম জানা ছিল বাতেনী ইলম জানতেন না।নাউযুবিল্লাহ।



৬/আত্তসুদ্ধি, সুফিয়াকেরামদের নিয়ম নীতি ,মুরাকাবা, পীর মুরিদিকে নাজায়েজ ও হারাম বলে।



৭/এরা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি দুরুদ সালাম দালায়েলুল, কাছিদাবুরদা পাঠানো অপছন্দনীয় কাজ বলে মনে করে।



৮/এরা নবীগন ও আউলিয়াগনের জীবন বৃত্তান্ত আলোচনাকে খারাপ মনে করে


৯/ওয়াহাবীরা নিজেদের আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার লোকদের কাফের বলে সম্বোধন করে।



১০/তারা অন্য আকিদার মুসলমানদের মাল সম্পদকে গনিমতের মাল মনে করে এবং তাদের ধন সম্পদ কেড়ে নেওয়াকে হালাল মনে করে।



আমাদের দেশে মাদ্রাসা শিক্ষার দুটি ধারা আছে একটি আলিয়া আরেকটি কওমী।আলিয়া মাদ্রাসা সম্পূর্ণ সরকারি অনুদানে পরিচালিত হয়।ওখানে সরকার নির্দেশিত সিলেবাস অনুযায়ি পড়ানো হয়।আর কওমি মাদ্রাসা সম্পূর্ণ জনগনের সহযোগিতায় পরিচালিত তাই এই মাদ্রাসাগুলি নিজস্ব সিলাবাসে পাঠদান করে।( মাদ্রাসা শিক্ষা দুই ধারা বিভক্ত হওয়ার ইতিহাস আছে তা ইনশাআল্লাহ অন্য সময় আলোচনা করব)।আমাদের দেশের এক শ্রেণীর আলেম এই কওমী আলেমদেরকে ওয়াহাবী বলে সম্বোধন করে।কিন্ত বাস্তবে দেখা যায় এই কওমী আলেমরা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সুন্নত পালন করেন।ওয়াহাবী আকিদার একটি আকিদাও কওমী আলেমদের মাঝে নাই।রাসুল করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ভালবাসার ব্যাপারে এবং উনার সুন্নত পরিপূর্ণ ভাবে পালনের ব্যাপারে কওমী আলেমগন সবচেয়ে বেশি অগ্রগামী।উনারা শুধু বাহ্যিক গত (পোষাক ,দাড়ি, কথা-বার্তা ইত্যাদি) সুন্নত নয় আভ্যন্তরীন (খাওয়া দাওয়া, ঘর-সংসার, তাহাজ্জুদের নামায ইত্যাদি) সুন্নতের ব্যাপারেও খুবই যত্নবান।কওমী আলেমগন বেশির ভাগই খুব সাধারন জীবন যাপন করেন।তারা রাসুলে করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোন ব্যাপার নিয়ে বাড়াবাড়ি করেন না।ঠিক যতটুকু হাদিসে পাকে আছে ততটুকুই পালন করেন।নিজ হতে কোন কিছু বাড়ানোকে বিদাআত ও কোন কিছু কমানোকে হারাম মনে করেন।

{সুত্রঃ প্রসংগঃওয়াহ্যাবী কারা/ লেখকঃহযরত আল্লামা শাঃ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ)/ মাসিক মইনুল ইসলাম/ নভেম্বর- ২০০৮ }ফ



আমাদের দেশে প্রায় শোনা যায় ওয়াহ্যাবি(ওয়াহাবি) মুসলমানের কথা।আমাদের দেশের বিশেষ এক শ্রেণীর কওমী আলেমদেরকে এক শ্রেণীর আলেম ও তাদের অনুসারী সাধারন মুসলমানরা ওয়াহাবী বলে।আর এক শ্রেনীর আলেম নিজেদেরকে সুন্নি বলে পরিচয় দেয়।প্রথমে আমরা জানার চেষটা করি সুন্নি কথাটার অর্থ কি।সাধারন ভাবে বলতে গেলে যারা রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পরিপূর্ণ সুন্নত মেনে চলেন তারাই সুন্নি।

আসল ওয়াহাবি কে এবং কারা?

মুহাম্মদ বিন আব্দুল ওয়াহ্যাব নজদী তেরশ শতাব্দিতে আরবের নজদ নামক প্রদেশে আত্তপ্রকাশ করে।সে ভ্রান্ত আকিদায় বিশ্বাসী ছিল ।সে আহলুসসুন্নাত ওয়াল জামাতের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত থাকত এবং তার নিজ আকিদা ছাড়া অন্য আকিদার মুসলমানদের কাফের হিসাবে আখ্যায়িত করত। ভিন্ন আকিদার মুসলমানদের মাল ধন সম্পদ জোর করে ছিনিয়ে নেওয়াকে হালাল ও তাদের হত্যা করাকে পূণ্যের কাজ বলে ফতো্যা দিত।এই ওয়াহাবীরা তৎকালীন আমলে দলে এত ভারী ছিল যে তাদের হাতে হাজার হাজার খাটি মুসলমান শহিদ হয়েছিল।তাদের অত্যাচারে তৎকালীন সময়ে মক্কা মদিনার অনেক মুসলমান পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল।সেই থেকে আরব দেশসহ অন্যান্য মুসলিম দেশে ওয়াহাবী ও তার অনুসারীদের কঠোর সমালোচনা করা হয় ও ঘৃনা চোখে দেখা হয়।


{সুত্রঃ প্রসংগঃওয়াহ্যাবী কারা/ লেখকঃহযরত আল্লামা শাঃ আহমদ শফী (দাঃ বাঃ)/ মাসিক মইনুল ইসলাম/ নভেম্বর- ২০০৮ }



শিয়া-সুন্নি বিরোধ কেন? শিয়ারা কি আসলেই প্রকৃত মুসলিম?

প্রশ্ন: আমার প্রশ্ন হলো সুন্নি-শিয়াদের মধ্যে কেন এত বিরোধ লেগে থাকে? আর আমি অনেকের কাছেই শুনেছি- শিয়ারা রাসূল (সা.)কে নবী হিসেবে স্বীকার করেন না, তাহলে ব্যাপারটা কেমন হয়ে গেল না? আল্লাহর পরেই তো রাসূলকে সম্মান করতে হবে? শিয়ারা কি আসলেই প্রকৃত মুসলিম?
রেডিও তেহরানের ফেসবুক গ্রুপে এ প্রশ্নটি করেছেন মাহমুদুল হাসান খান





উত্তর: আপনার প্রশ্নগুলোর জন্য ধন্যবাদ। আসলে পবিত্র কুরআন ও হাদিসের বর্ণনাগুলোর ব্যখ্যা নিয়ে মতভেদের কারণেই মুসলমানদের মধ্যে নানা মাজহাব বা মতবাদ সৃষ্টি হয়েছে। এটি সব ধর্মের মধ্যেই দেখা যায়। এ জাতীয় মতভেদ কেবল তর্ক বা মত-বিনিময়ের পর্যায়ে সীমিত থাকলেই তা স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়। কিন্তু এ নিয়ে সহিংসতা ও দাঙ্গা-হাঙ্গামা সব পক্ষের জন্যই ক্ষতিকর বলে এ ব্যাপারে মুসলমানদের সতর্ক থাকা উচিত। কারণ, পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর রশি বা রজ্জুকে আঁকড়ে ধর এবং পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না। 



আসলে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে কিছু কিছু বিষয়ে মতভেদ থাকলেও অনেক মৌলিক বিষয়েই রয়েছে মতের মিল। যেমন, উভয় মাজহাবই এক আল্লাহ, অভিন্ন ধর্মগ্রন্থ তথা পবিত্র কুরআন এবং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.)-কে সর্বশেষ নবী হিসেবে মানেন। উভয় মাজহাবই পরকালের প্রতি তথা পুনরুত্থান ও বিচার দিবসের প্রতি বিশ্বাস, নামাজ, রোজা, হজ, যাকাত ও নারীদের পর্দা করা ফরজ হওয়ার বিষয়সহ আরো অনেক বিষয়েই একমত। এইসব বিষয়ের খুঁটিনাটি দিকে কিছু মতভেদ রয়েছে যা সুন্নি ভাইদের চার মাজহাবের মধ্যেও রয়েছে।



তবে শিয়া ও সুন্নি মাজহাবের মধ্যে মতবিরোধের একটা দিক হলো- বিশ্বনবী (সা.)'র পর তাঁর স্থলাভিষিক্ত তথা খলিফা বা প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে। সুন্নি ভাইয়েরা মনে করেন এ বিষয়টি আল্লাহর সর্বশেষ রাসূল মুসলমানদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন এবং সাহাবাগণ নির্বাচন পদ্ধতিতে খলিফা নির্বাচন করেছেন।

অন্যদিকে শিয়া মুসলমানরা মনে করেন, বিশ্বনবী (সা.)'র স্থলাভিষিক্ত তথা খলিফা বা প্রতিনিধি নিয়োগের বিষয়টি মহান আল্লাহই নির্ধারণ করেন ও তা রাসূল (সা.)-কে জানিয়ে দেন। আর এরই ভিত্তিতে হযরত আলী (আ.) এবং এরপর তাঁর বংশধরগণ ছিলেন মুসলমানদের প্রকৃত খলিফা।



তবে শিয়াদের সম্পর্কে একটি মারাত্মক মিথ্যা অভিযোগ তথা অপবাদ হলো তারা বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (সা.)-কে  নবী বা শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করেন না। বরং শিয়া মুসলমানরাও সুন্নি ভাইদের মতই মনে করেন যে, বিশ্বনবী (সা.)'র পর আর কোনো নবী আসবেন না এবং যারাই এ বিশ্বাস পোষণ করবে না তারা মুসলমান হিসেবে স্বীকৃত হবে না।



আমিরুল মু'মিনিন আলী (আ.)'র ভাষণ ও বক্তৃতামালার সংস্করণ 'নাহজুল বালাগ্বা' শিয়াদের জন্য শীর্ষস্থানীয় প্রামাণ্য বই। আল্লাহ ও বিশ্বনবী (সা.)'র বাণীর পরই এ বইকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তারা। আবার সুন্নি মুসলমানের কাছেও এটি একটি নির্ভরযোগ্য প্রামাণ্য বই। এ বইয়ে স্বয়ং আলী (আ.) থেকে বার বার বলা হয়েছে যে রাসূল (সা.) ছিলেন সর্বশেষ নবী। দৃষ্টান্ত হিসেবে এ বইয়ে উল্লেখিত আলী (আ.)'র ৭১ ও ২৩৩ নম্বর খোতবা দেখুন (সাইটে এ দুই খোতবার ফটোকপি সংযুক্ত করা হল)।  তাই শিয়ারা রাসূল (সা.)-কে নবী ও রাসূল বলে মানেন না- এমন দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ইসলামের শত্রুদের পক্ষ থেকে প্রচারিত একটি অপবাদ।



শিয়া মুসলমানরা যে কোনো সমাবেশে কিংবা একা থাকলেও বিশ্বনবী (সা.)'র পবিত্র নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে দরুদ পাঠ করে সম্মান প্রদর্শন করেন তাঁকে ও এমনকি তাঁর আহলে বাইতকেও। 

 এ ছাড়াও শিয়া মুসলমানরা বিশ্বনবী (সা.)'র নবুওত প্রাপ্তির দিবসকে উৎসব হিসেবে পালন করে থাকেন।



শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের মধ্যে কোনো কোনো বিষয়ে মতভেদ থাকলেও তারা যুগ যুগ ধরে পরস্পরের সঙ্গে শান্তিতে বসবাস করে এসেছে। তাদের মধ্যে বড়জোর জ্ঞানগত তর্ক-বিতর্ক বা যুক্তি বিনিময় হতো। আসলে ইসলামের শত্রুরাই মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য সৃষ্টির জন্য শিয়া ও সুন্নিদের মধ্যে সহিংস দাঙ্গা বাধানোর জন্য সুন্নি নামধারী একদল ওয়াহাবিকে উস্কে দিয়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে। এই ওয়াহাবিদের দৃষ্টিতে সুন্নিদের চার মাজহাবের তিন মাজহাবের ইমামগণ এবং তাদের অনুসারীরাও কাফির ও হত্যার যোগ্য! আপনারা হয়তো জানেন যে ভারত বর্ষে মোঘল শাসকদের অনেকেই ছিলেন শিয়া মুসলমান। নবাব সিরাজউদদৌলাও ছিলেন শিয়া মুসলমান। দানবীর ও ভারত বর্ষে মুসলমানদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য সবচেয়ে বেশি সম্পদ ওয়াকফকারী মহান ব্যক্তিত্ব হাজি মুহাম্মাদ মুহসিন ছিলেন একজন শিয়া মুসলমান। ভারতবর্ষ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে শিয়া ও সুন্নি মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধভাবে সাম্রাজ্যবাদী ব্রিটেনসহ উপনিবেশবাদী কাফির শক্তিগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।



বর্তমান যুগে ইহুদিবাদী ইসরাইলের অপরাধযজ্ঞ থেকে মুসলমানদের দৃষ্টি আড়াল করতে এবং মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও বিভেদ উস্কে দিয়ে তাদেরকে সহজেই শোষণ করার জন্য দেশে দেশে শিয়া-সুন্নি বিভেদ উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে সাম্রাজ্যবাদীরা।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরাক ও সিরিয়ায় এ ধরনের তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে আলকায়দা বা আইএসআইএল-এর ওয়াহাবি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে। কিন্তু এই দুই দেশের শিয়া ও সুন্নি আলেমগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ওয়াহাবি ও বিজাতীয় শক্তিকে মোকাবেলার আহ্বান জানানোর পর সন্ত্রাসীরা শিয়া ও সুন্নি মুসলমানদের সম্মিলিত শক্তির কাছে কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।



ইরানের ইসলামী বিপ্লবের মহান রূপকার ইমাম খোমেনী (র.)ও বলেছেন, যারা মুসলমানদের মধ্যে শিয়া-সুন্নির নামে অনৈক্য সৃষ্টি করে তারা শিয়াও নয়, সুন্নিও নয়, বরং সাম্রাজ্যবাদীদের দালাল। #              





 রেডিও তেহরান/এএইচ/এআর/১৮

Monday, July 13, 2015

তাওবা করার সঠিক নিয়ম কী?


মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব হলেও অনেক সময় বুঝে না বুঝে পাপ কাজে জড়িয়ে পড়ে। অনেক সময় এমন কিছু পাপ করে ফেলে যেগুলো তাওবা না করলে মহান আল্লাহ পাকের কাছ থেকে ক্ষমা আশা করাই ঠিক হবে না। আবার যেন তেন ভাবে তাওবা করলেও তা মহান আল্লাহ তায়ালা কবুল করবে না। তাই এখনই জেনে নিন তওবা করার সঠিক নিয়ম।

১. পাপ কাজ করা বন্ধ করতে হবে। এখন শুধু মুখে মুখে তাওবা করি, কয়েকদিন পর থেকে পাপ কাজটা ছেড়ে দেবো – এ রকম হলে তওবা হবে না।
২. অতীতের সমস্ত পাপ কাজ ও ভুল ত্রুটি আল্লাহর কাছে স্বীকার করে তাঁর কাছে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হতে হবে।
৩. অন্তরে ঐকাজগুলোর প্রতি ঘৃণা রেখে সেইগুলোতে আর ফিরে না যাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞা করতে হবে।
৪. লজ্জিত ও অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে সমস্ত গুনাহ খাতার জন্য “ইস্তিগফার” করতে হবে (মাফ চাইতে হবে) + “তওবা” করতে হবে (গুনাহ করা বন্ধ করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসতে হবে)।
৫. কারো হক্ক নষ্ট করে থাকলে তাকে তার হক্ক ফিরিয়ে দিতে হবে, অথবা যেইভাবেই হোক, সামর্থ্য না থাকলে অনুরোধ করে, ক্ষমা চেয়ে তার কাছ থেকে মাফ করিয়ে নিতে হবে।

উল্লেখ্য, তওবা করলে আল্লাহ সমস্ত গুনাহ মাফ করে দেন, এমনকি কারো পাপ আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও আল্লাহ তাকে মাফ করে দেবেন। কিন্তু বান্দার কোনো হক্ক নষ্ট করলে সেটা বান্দা মাফ না করলে তিনি মাফ করবেন না।

৬. অন্তরে আশা রাখতে হবে, যে আমি গুনাহগার কিন্তু আল্লাহ গাফুরুর রাহীম – অতীব ক্ষমাশীল ও দয়ালু। সুতরাং তিনি আমার তওবা কবুল করবেন।
৭. তওবা করার পরে প্রাণপণে চেষ্টা করতে হবে পাপ কাজ থেকে সম্পূর্ণ দূরে থাকতে, এবং সাধ্য অনুযায়ী বেশি বেশি করে নেকীর কাজ করার চেষ্টা করতে হবে।

৮. যে পাপ কাজ থেকে তওবা করা হলো (সমস্ত পাপ কাজ থেকেই তওবা করা ফরয), কোনো ভুলে বা কুপ্রবৃত্তির কারণে পাপ কাজটা করে ফেললে সাথে সাথে আবার তওবা করে সেটা থেকে ফিরতে হবে। এইভাবে যখনই কোনো পাপ হবে সাথে সাথেই তওবা করতে হবে, মৃত্যু পর্যন্ত।

Sunday, June 21, 2015

যোগ্য আলেম কে? কার কাছ থেকে ফতওয়া নিতে হবে? ফুটপাথের ফতওয়া নেয়া যাবে কিনা?

যারা দ্বীন শেখার প্রচন্ড তাগিদ ও উত্সাহ নিয়ে বিভিন্ন ইমাম, খতিব বা দেশীয় ভাষায় হুজুরদের পেছনে পেছনে ঘুরেছেন তারা হয়ত বুঝে থাকবেন, আমাদের দেশে দ্বীন শেখার সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে ভাল আলেম নির্বাচন।

কারন এই আলেমদের কথায় কেউ মাজারে সিজদা দিচ্ছে, কেউ বায়তুল মোকাররমে জুতা ছুড়াছুড়ি করছে, কেউ বা পীর সাহেবের নামে মুরগী জবাই করছে, কেউ চিল্লা দিয়ে জান্নাতের সার্টিফিকেট নিচ্ছে, কেউ ক্লিন সেভ করা যায়েজ মনে করছে, কেউ বা মিলাদ পড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি আদায় করছে, কেউ বা জিহাদের ডাক না দেওয়া সকল আলেম কে জালেম/কাফের/গোমরাহ মনে করছে, কেউ বা ইসলামের মধ্যে হরতাল-গনতন্ত্র ইত্যাদী আবিস্কার করছে। এ অবস্হায় কোনদিকে যাব বা কার কথা মানব এ প্রশ্নের উত্তর পাওয়া বড় কঠিন ব্যাপার। বিশেষ করে এ ধরনের প্রশ্ন তো থেকেই যায় যে, ‘আমার পছন্দের আলেম অন্যের পছন্দ নাও হতে পারে’। আর সমস্যাটা চুড়ায় পৌছে যখন মানুষ এ অবস্হান নেয় – “আমার হুজুর কি কম জানেন? উনি ভুল করলে আমিও করব“। অনেক হুজুর অবশ্য আর একটু এগিয়ে যেয়ে জান্নাতের ঠিকা নিয়ে নেন এবং বলে বসেন “ আমি জান্নাতে একা যাব না“।

এ সমস্যার একটা বড় কারন হলো ফুটপাথের ফতওয়া। আমরা ফুটপাথের খোলা খাবার বন্ধ করেছি, হাতুরে ডাক্তারের চিকিত্সা নেয়া বন্ধ করেছি, কিন্তু ফুটপাথের ফতওয়া নেওয়া বন্ধ করিনি। অনেক হ্মেত্রে যে হুজুর আমার মতের সপহ্মে রায় দিবেন তিনিই বড় হুজুর হয়ে যান। দ্বীনের সঠিক ঞ্জান না থাকায় তাদের কারও কাছে হুজুর বাছাই করার criteria হল বড় দাড়ি, কারও কাছে অন্ধ অনুসারির সংখ্যা, কারও কাছে কত বড় বা কয়তলা মসজিদের ইমাম/খতিব, অথবা কারও কাছে কে কত সুন্দর সুর করে ওয়াজ করতে পারল, অথবা কার নামে কত বেশি কেরামতির কল্পকাহিনী প্রচলিত আছে ইত্যাদী ইত্যাদী।

কিন্তু আসলে কি তাই? ইসলামে কি যেকোন হুজুর/ইমাম সাহেব/খতিব সাহেব/দায়ী/ অথবা ক্বারী সাহেবই ফতওয়া দিতে পারেন? আসুন মুজতাহীদ আলেমদের কাছ থেকে জেনে নেই ‘কোন আলেমের কাছ থেকে ফতওয়া নেয়া যাবে’ :

====================================
সকল প্রশংসা আল্লাহর.

‘আলেম (পণ্ডিত), ফকিহ এবং মুজতাহীদ শব্দগুলি মোটামুটি একই অর্থ বহন করে। এগুলো বলতে আসলে তাদেরকেই বুঝায় যারা শরীয়ার সিদ্ধান্ত বের করার জন্য প্রচেষ্টা করেন এবং যাদের দলিল থেকে শরীয়ার সিদ্ধান্ত আহরণ করার সহ্মমতা আছে।

এর মানে এই যে, তাকে ইজতিহাদ করার যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। এই অপরিহার্য বিষয়গুলি পূরণ ছাড়া কাউকেই (‘আলেম, মুজতাহীদ বা ফকিহ) হিসাবে আখ্যায়িত করা উচিত হবে না।

পণ্ডিতদের ইজতিহাদের এই অপরিহার্য বিষয়গুলির দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত, যাতে সবার জন্য দরজা খুলে না যায় এবং যে কেউ বৃদ্ধ অথবা অল্পবয়সী- আল্লাহর দেয়া বিধান নিয়ে এমন মন্তব্য করে না বসেন যার সম্পর্কে তার সম্মোক ঞ্জান নেই।

দুইটি রিপোর্ট থেকে যা আমরা বিষয়গুলি বুঝানোর চেষ্টা করব:

প্রথম রিপোর্ট :

প্রথম রিপোর্টটি আল শাওকানী (রহ)  থেকে বর্ণিত এবং তিনি যা বলেছেন তা পাঁচটা ভাগে বিভক্ত করা যেতে পারে। মুজতাহিদের যোগ্যতার এই পাঁচ অপরিহার্য বিষয়গুলি হল:

(ক) কুরআন এবং সুন্নাহ সম্পর্কে ব্যাপক জ্ঞান থাকতে হবে।

এটা বলতে আসলে এটা বুঝায় না যে, তার সকল সুন্নাহ কণ্ঠস্থ থাকতে হবে; বরং এই যোগ্যতা থাকা যথেষ্ট যে, তিনি সুন্নাহগুলিকে তাদের বইগুলিতে খুঁজে পেতে সহ্মম এবং সুন্নাহগুলির ভাষ্য এবং বিষয়বস্তুর সঙ্গে সুপরিচিত, বিশেষ করে প্রধানতম হাদীসের সংকলন সমুহ (সহীহ আল বুখারী, সহীহ মুসলিম, সুনান আবু দাউদ, সুনান আল তিরমিজি, সুনান আল নাসায়ী এবং সুনান ইবনে মাজাহ) ইত্যাদি।
এছাড়াও তার, হাদীসের সহীহ যয়ীফের ঞ্জান থাকতে হবে।

(খ) ইজমার (ঐক্যমত্য) বিষয়গুলো সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

(গ) আরবি ভাষায় ভাল দখল থাকতে হবে।
এর মানে এটা নয় যে, আরবী মুখস্হ থাকলেই হবে। বরং তাকে আরবী ভাষা এবং তার গঠন বুঝতে পারার যোগ্যতা থাকতে হবে।

(ঘ) উসুলে ফীক (ইসলামী আইনশাস্ত্র এর মূলনীতি) ও কিয়াসের এর ঞ্জান থাকতে হবে, কারণ এগুলো হল শরীয়ী সিদ্ধান্ত প্রদানের জন্য ভিত্তি হবে।

(ঙ) মানসুখ সম্পর্কে ঞ্জান থাকতে হবে এবং কি কি বিষয় মানসুখ হয়েছে তা জানতে হবে।

দেখুন: Irshaad আল Fuhool, 2/297-303

২য় রিপোর্ট

দ্বিতীয় রিপোর্টটি শায়খ মুহাম্মদ ইবনে উসায়মিন (রহ: ) থেকে বর্ণিত হয়েছে:

তিনি মুজতাহীদের যোগ্যতা প্রসংগে আল শাওকানী (রহ: ) উল্লিখিত বিষয় থেকে বিশেষ কোন ভিন্ন মত পোষন না করে কয়েকটি বিষয় আরো স্পষ্ট করেছেন।

ইজতিহাদ করার জন্য কতগুলি শর্তের পুরন আবশ্যক, তা হল :

(ক) তার (মুজতাহীদ) শরীয়ার দলিল সম্পর্কে সম্মোক ঞ্জান থাকতে হবে, যা তার ইজতিহাদের জন্য আবশ্যক; যেমন কুরআনের আয়াত এবং হাদীস সমুহ, যেখানে বিষয়টি সম্পর্কে বলা হয়েছে।

(খ) হাদীসের সহীহ যয়ীফের পার্থক্য সৃষ্টিকারী বিষয়গুলো (যেমন ইসনাদ এবং এ সম্পর্কীত বিষয় সমুহ) সম্পর্কে সম্মোক ঞ্জান থাকতে হবে।

(গ) মানসুখ (আল naasikh wa’l-mansookh) এবং ইজমা (ঐক্যমত্য) সম্পর্কে সম্মোক ঞ্জান থাকতে হবে। যাতে তিনি এমন কিছু বিষয়ে রায় প্রদান না করেন যা মানসুখ হয়ে গেছে অথবা যার বিপরীতে আলেমদের ইজমা রয়েছে।

(ঘ) ফতওয়াকে প্রভাবিত করে এমন বিষয়াদী সম্পর্কে ঞ্জান থাকতে হবে (যেমন reports of specific meanings, reports that set limits, and so on), যাতে তিনি যেন এমন সিদ্ধান্ত প্রদান না করেন যা তার বিপরীত/ভিন্ন।

(ঙ) তার ঞ্জান থাকতে হবে -আরবি ভাষা এবং উসুলে ফিক এর উপর, বিশেষ করে যা মৌখিক/বর্ননাযুক্ত প্রমানাদির সাথে সংশ্লিষ্ট (যেমন কোনটা সাধারন হুকুম আর কোনটা আপেহ্মিক, কোনটা মৌলিক/শর্তহীন আর কোনটা শর্তযুক্ত, কোনটা সংহ্মিপ্ত বর্ননা এবং কোনটা বিস্তারিত এবং এ সম্পর্কীত অন্যান্ন বিষয়াদি); যাতে তার সিদ্ধান্ত সে অনুযায়ী হয়, যা দলিলের বর্ননায় বুঝানো হয়েছে।

(চ) দলিল থেকে সিদ্ধান্ত নিষ্পন্ন করার ক্ষমতা থাকতে হবে।

al-Usool fi ‘Ilm al-Usool, p. 85, 86; Sharh (commentary thereon), p. 584-590.

এটা নির্দিষ্ট করা উচিত যে বর্তমানে সুন্নাহর উল্লেখ করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়েছে, যার অন্যতম কারণ হল, সুন্নাহ ওপর লিখিত বই সমুহ।

যার মধ্যে উপরে বর্নিত যোগ্যতাগুলি বিদ্যমান তিনিই scholar বা ‘আলেম, যারা দলিল থেকে শরীয়ার সিদ্ধান্ত আহরণ এবং প্রদানের হ্মমতা রাখেন। এবং যাদের মধ্যে উপরে বর্নিত যোগ্যতাগুলি বিদ্যমান থাকবে না তাদের কে scholar বা ‘আলেম বা মুজতাহীদ বা ফকীহ বলা উচিত হবে না।

আরও বলে রাখা দরকার এই শব্দগুলি (‘আলেম, মুজতাহীদ এবং ফকিহ) প্রায়োগিক বিষয়ের পরিভাষাগত শব্দ, যেগুলো স্কলারদের মাধ্যমে এভাবেই নিরধারিত হয়ে আছে। সুতরাং এই শব্দগুলি যত্রতত্র ভাবে তাদের হ্মেত্রে ব্যাবহার করা উচিত নয়, যারা শুধুমাত্র অন্যের ফতওয়া পৌছে থাকে, অথবা স্কুল/কলেজ/বিশ্ববিদ্যলয়ে ইসলামের কোন বিশেষ বিষয় পড়িয়ে থাকেন, অথবা যিনি শুধুমাত্র একজন দায়ী (দাওয়াতের কাজ করে থাকেন), অথবা যিনি শুধুমাত্র একজন ভাল ইসলমী বক্তা, অথবা যিনি শুধুমাত্র একজন ভাল ক্বারী। একজন মানুষ স্কলার না হয়েও একজন বড় দায়ী হতে পারেন (যার ডাকে হাজার হাহার মুসলিম দ্বীনে আসতে পারে), একজন বড় ইসলামী বক্তা হতে পারেন, বা একজন বড় ইসলামী নেতা হতে পারেন।

আল্লাহ আমাদের আরও জানা ও বোঝার তাওফীক দান করুন। আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

—সুত্রঃ  http://islamqa.com/en/ref/145071

এবং অত্যান্ত দুঃখের বিষয় এই যে আমাদের দেশে এই শ্রেনীর আলেম খুব কমই আছেন।

====================================================

কাজেই এটা আমাদের খুব ভাল করে বুঝতে হবে

১. শুধু বড় দাড়ি আর টুপি থাকলেই বড় আলেম হওয়া যায় না। অথবা অনেকবার চিল্লা দিলেই যোগ্য আলেম হওয়া যায় না।

২. শুধু মাদ্রাসা থেকে পাশ করে আসলেই তিনি ফতওয়া দিতে পারেন না।

৩. বড় মসজিদের ইমাম/খতিব সাহেব হলেই তিনি বড়/যোগ্য আলেম নাও হতে পারেন

৪. কোন হুজুরের বিশাল অনুসারি গোষ্ঠী থাকলেই তিনি বড় আলেম হয়ে যাবেন না

৫. শুধু দুই বছরের ইফতা কোর্স করে নামের আগে মুফতি লাগালেই যোগ্য আলেম হওয়া যায় না।

৫. আবার কোন সাধারন মানুষের মধ্যেই যদি উপরে বর্ণিত যোগ্যতাগুলি বিদ্যমান থাকে তাহলে তিনি যোগ্য আলেম হতে পারেন।

Wednesday, March 18, 2015

হিংস্র জন্তুর চামড়ার বিছানায় বসা নিষেধ, কিন্তু কেন?


আরবি হাদিস
ﻭَﻋَﻦْ ﺃَﺑﻲ ﺍﻟﻤَﻠِﻴﺢِ، ﻋَﻦ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ
ﻧَﻬَﻰ ﻋَﻦْ ﺟُﻠُﻮﺩِ ﺍﻟﺴِّﺒَﺎﻉِ . ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱُّ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲُّ
ﺑﺄﺳﺎﻧِﻴﺪ ﺻِﺤَﺎﺡٍ . ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ ﻟﻠﺘﺮﻣﺬﻱ : ﻧَﻬَﻰ ﻋَﻦْ ﺟُﻠُﻮﺩِ
ﺍﻟﺴِّﺒَﺎﻉِ ﺃﻥْ ﺗُﻔْﺘَﺮَﺵَ .
বাংলা হাদিস
আবুল মালীহ রাদিয়াল্লাহু আনহু স্বীয়
পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে,
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম হিংস্র জন্তুর
চামড়ার বিছানায় বসতে নিষেধ
করেছেন।
তিরমিযীর বর্ণনায় আছে, তিনি হিংস্র
জন্তুর চামড়া বিছাতে নিষেধ করেছেন।
[তিরমিযি ১৭৭১, নাসায়ি ৪২৫৩, আবু দাউদ
৪১৩২, আহমদ ২০১৮৩, ২০১৮৯, দারেমি ১৯৮৩]

স্বাস্থ্য পরিচর্যা সম্পর্কে ইসলামের দিক- নির্দেশনা


কোরান-সুন্নাহর আলোকে স্বাস্থ্য
সুরক্ষার বিষয়টি অধিক গুরুত্ব পেয়েছে।
সুস্থতাই সবার কাম্য। রাসুল (সা.)
হাদিসে ইরশাদ করেছেন, ‘যে ঈমানদার
ব্যক্তির শারীরিক শক্তি আছে,
তিনি শ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর নিকট প্রিয়। কারণ
ইবাদত করার জন্য শারীরিক
শক্তি প্রয়োজন। তার পথে সংগ্রাম করার
জন্য শক্তি প্রয়োজন। শারীরিক
শক্তি আল্লাহ তায়ালার অন্যতম শ্রেষ্ঠ
নেয়ামত। হাদিস শরিফে রাসুল (সা.)
পাঁচটি অমূল্য সম্পদ হারানোর
পূর্বে এগুলোর গুরুত্ব প্রদানের
কথা বলেছেন। এর অন্যতম হচ্ছে স্বাস্থ্য ও
সুস্থতা। স্বাস্থ্য ও
চিকিৎসা সম্পর্কে ইসলামে রয়েছে বিশদ
আলোচনা। স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও রোগ
প্রতিরোধের বিষয়ে ইসলাম সর্বোচ্চ
গুরুত্ব দিয়েছে। সতর্কতা সত্ত্বেও
কোনো রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত
হয়ে গেলে এর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার
প্রতিও রয়েছে জোরালো তাগিদ।
স্বাস্থ্য রক্ষার পরপরই ইসলাম রোগ
প্রতিরোধের প্রতি জোর তাগিদ
দিয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ
করতে উৎসাহিত করেছে। আধুনিক
চিকিৎসা বিজ্ঞানের সে¬াগান হচ্ছে-
চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ উত্তম।
এজন্য আমরা দেখতে পাই, যে বিষয়গুলোর
কারণে মানুষের রোগ হয় ইসলাম আগেই
সেগুলোকে নিষিদ্ধ করে দিয়েছে।
রাসুল (সা.) রোগের প্রতিষেধক
হিসেবে মধুর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ
করেছেন। গবেষণা করে দেখা গেছে,
একমাত্র মধুর ব্যবহারেই হাজারো রকমের
কঠিন-জটিল রোগ থেকে অতি অল্প
সময়েই আরোগ্য লাভ করা সম্ভব।
মানবদেহের সুস্থতার জন্য যত প্রকার
ভিটামিন আবশ্যক তার শতকরা ৭৫ ভাগই মধুর
মধ্যে বিদ্যমান। চিকিৎসা শাস্ত্র মতে মধু
অপেক্ষা শক্তিশালী ভিটামিনযুক্ত পদার্থ
পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি। ইসলাম
মানবপ্রকৃতির সহায়ক ও উপযোগী একটি ধর্ম।
মানবজীবনের সামগ্রিক দিক পূর্ণাঙ্গ ও
যথাযথ আলোচিত হয়েছে ইসলামে।
মানুষের জীবনের সব প্রয়োজনের কথাই
উল্লেখ রয়েছে। একান্ত ব্যক্তিগত
বিষয়গুলো সম্পর্কেও ইসলামের সুস্পষ্ট
নির্দেশনা পাওয়া যায়। রাসুল (সা.)
বলেছেন, ‘নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার
শরীরের হক আছে।’ স্বাস্থ্য
রক্ষা করা শরিয়াতের তাগিদ। এর যথেচ্ছ
ব্যবহার করা যাবে না। কোরান-সুন্নাহ
এবং ইসলামি শরিয়াত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য
যেমন গুরুত্ব
দিয়েছে তেমনি তা কার্যকরের ফলপ্রসূ
উপায় বাতলে দিয়েছে। যেমন,
নেশা জাতীয় দ্রব্য হারাম করা, পরিমিত
আহার, সময়ানুগ খাবার গ্রহণ ইত্যাদি।
কাজেই স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সচেষ্ট
হওয়া প্রত্যেক মুসলমানের ঈমান ও
বিশ্বাসের দাবি।
মাওলানা মিরাজ রহমান

সামর্থ থাকার পরও বিনয়ের সাথে মূল্যবান পোশাক পরিহার করার ফজিলত


আরবি হাদিস
ﻭَﻋَﻦْ ﻣُﻌَﺎﺫِ ﺑﻦِ ﺃَﻧَﺲٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ﺃﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ، ﻗَﺎﻝَ : ‏«
ﻣَﻦْ ﺗَﺮَﻙَ ﺍﻟﻠِّﺒَﺎﺱَ ﺗَﻮَﺍﺿُﻌﺎً ﻟﻠﻪِ، ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻘْﺪِﺭُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﺩَﻋَﺎﻩُ ﺍﻟﻠﻪُ ﻳَﻮﻡَ
ﺍﻟﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﻋَﻠَﻰ ﺭُﺅُﻭﺱِ ﺍﻟﺨَﻼﺋِﻖِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﺨَﻴِّﺮَﻩُ ﻣِﻦْ ﺃﻱِّ ﺣُﻠَﻞِ
ﺍﻹﻳﻤَﺎﻥِ ﺷَﺎﺀَ ﻳَﻠْﺒَﺴُﻬَﺎ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ : ‏« ﺣﺪﻳﺚ
ﺣﺴﻦ »
বাংলা হাদিস
মুআয ইবনে আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
যে ব্যক্তি মূল্যবান পোশাক পরার
ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও
বিনয়বশতঃ তা পরিহার করল, আল্লাহ
কিয়ামতের দিন সমস্ত মানুষের
সাক্ষাতে তাকে ডেকে স্বাধীনতা
দেবেন, সে যেন ঈমানের (অর্থাৎ
ঈমানদারদের পোশাক) জোড়াসমূহের মধ্য
থেকে যে কোন
জোড়া বেছে নিয়ে পরিধান করে।
[তিরমিযি ২৪৮১, আহমদ ১৫২০৪]

শ্বশুড়-শ্বাশুড়িকে আব্বা- আম্মা বলা যাবে কিনা?


শ্বশুড়-শ্বাশুড়িকে আব্বা-
আম্মা বলা যাবে কি? যদি বলা যায়
তাহলে ওই হাদিসের ব্যাখ্যা কী হবে,
যে হাদিসে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন
করতে নিষেধ করা হয়েছে?
যে হাদিসে অন্যকে পিতা বলে সম্বোধন
করতে নিষেধ করা হয়েছে তার অর্থ
বংশপরিচয় প্রকাশ করার ক্ষেত্রে আসল
পরিচয় গোপন রেখে নিজের পিতার নাম
উল্লেখ না করে, অন্যের নাম প্রকাশ করা।
যেমন-আইডি কার্ড, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন
অথবা এমন কোনো দলিল বা স্থান
যেখানে কোনো ব্যক্তির
জন্মদাতা পিতার নাম প্রকাশ করা জরুরি হয়।
আর স্বামী বা স্ত্রীর পিতা-
মাতাকে সম্মানার্থে আব্বা-
আম্মা বলে সম্বোধন করার
দ্বারা বংশপরিচয় গোপন হয় না। তাই শ্বশুড়-
শ্বাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলা হাদিসের
নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত নয়
এবং তা জায়েজ। মানে শ্বশুড়-
শ্বাশুড়িকে আব্বু-আম্মু বলে ডাকা যাবে।
[আহকামুল কুরআন, জাসসাস ৩/৩৫৪; সহীহ
বুখারী, হাদীস : ৬৭৬৬; ৬৭৬৮, ৪৩২৬,
৪৩২৭,৩৫০৮; উমদাতুল কারী ১৬/৭৯; সহীহ
মুসলিম, হাদীস : ১১২-১১৫; ইকমালুল মুলিম
১/৩১৯; তাফসীরে রূহুল মাআনী ৯/২১০;
তাফসীরে কুরতুবী ১২/৬৭; ফাতহুল মুলহিম
১/২৩৬; মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৯/৪৯-৫২;
মুসনাদে আহমদ ১/১৭৪, ৩/৮৯; ফয়যুল কাদীর
৬/৪৬; কেফায়াতুল মুফতী ৯/১১৮]

রেশম কাপড় পরিধান করলে কী হয়?


আরবি হাদিস
ﻭَﻋَﻨْﻪُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ، ﻳَﻘُﻮﻝُ : ‏« ﺇﻧَّﻤَﺎ ﻳَﻠْﺒَﺲُ
ﺍﻟﺤَﺮِﻳﺮَ ﻣَﻦْ ﻻَ ﺧَﻼَﻕَ ﻟَﻪُ ‏» . ﻣﺘﻔﻖٌ ﻋَﻠَﻴْﻪِ . ﻭﻓﻲ ﺭﻭﺍﻳﺔ
ﻟﻠﺒﺨﺎﺭﻱ : ‏« ﻣَﻦْ ﻻَ ﺧَﻼَﻕَ ﻟَﻪُ ﻓﻲ ﺍﻵﺧِﺮَﺓِ » .
বাংলা হাদিস
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আমি বলতে
শুনেছি, সে-ই রেশম পরিধান করে, যার
কোনই অংশ নেই।
বুখারির এক বর্ণনায় আছে, যার
আখেরাতে কোন অংশ নেই।
[বুখারি ৫৮২৮, ৫৮৩০, ৫৮৩৪, ৫৮৩৫, মুসলিম
২০৬৯, নাসায়ি ৫৩১২, ৫৩১৩, আবু দাউদ ৪০৪২,
ইবন মাজাহ ২৮১৯, ২৮২০, ৩৫৯৩, আহমদ ৯৩, ২৪৪,
৩০৩ , ৩২৩, ৩৫৮, ৩৬৭]

মায়ের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামের দিক- নির্দেশনা ও ভূমিকা

প্রত্যেক  মানুষ
পৃথিবীতে আসা এবং বেড়ে ওঠার
পেছনে প্রধান ভূমিকা থাকে মায়ের।
প্রত্যেক মা যদি সহিষ্ণু, মমতাময়ী,
কল্যাণকামী না হতেন তবে মানবসভ্যতার
চাকা শ্লথ হয়ে যেত। জন্মেরর সূচনাপর্ব
থেকে পরিণত বয়স পর্যন্ত
প্রতিটি ধাপে মায়ের অবদান অতুলনীয়।
সন্তানের জন্ম ও বেড়ে ওঠার
পেছনে মা-বাবার উভয়ের হাত রয়েছে-
একথা অনস্বীকার্য।
তবে এটা সর্বজনস্বীকৃত যে,
এক্ষেত্রে মায়ের ভূমিকাই প্রধান।
মা হচ্ছেন সন্তানের সুখ-দুঃখের অনন্ত
সঙ্গী। মা সন্তানের সুখে সুখী হন, আবার
সন্তানের দুঃখে দুঃখী হন। নিজের সমস্ত
স্বাদ-আহ্লাদ, আনন্দ-বেদনা বিলিয়ে দেন
সন্তানের সুখ-শান্তির জন্য। তার হৃদয়ের
প্রবহমান প্রতিটি রক্ত কণিকায়
রয়েছে সন্তানের জন্য ভালোবাসা।
মা তার
সন্তানকে তিলে তিলে গড়ে তোলেন।
পৃথিবীতে একমাত্র মায়ের
ভালোবাসা ও দানই নিঃস্বার্থ ও
বিনিময়হীন। ইসলাম মায়ের মর্যাদা ও
অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ইসলাম
মাকে উচ্চাসনে স্থান দিয়েছে।
ইসলামের ঘোষণা হচ্ছে, ‘মায়ের পায়ের
নিচে সন্তানের বেহেশত।’ মায়ের
সেবা শুশ্রƒষার দ্বারা বেহেশতের
অধিকারী হওয়া যায়। বাবার তুলনায় ইসলাম
মায়ের অধিকার অধিক ঘোষণা করেছে।
এক সাহাবি হজরত রাসুলুল্লাহকে (সা.)
জিজ্ঞেস করলেন, আমার সুন্দর ব্যবহার
পাওয়ার সবচেয়ে বেশি হকদার কে?
আল্লাহর রাসুল (সা.)
স্পষ্টভাবে ঘোষণা করলেন, তোমার মা।
সাহাবি আবার জিজ্ঞেস করলেন, আমার
মায়ের পরে আমি কার সঙ্গে সুন্দর আচরণ
করব? আল্লাহর নবী তাগিদ দেয়ার জন্য
বললেন, তোমার মায়ের পরেও তোমার
মায়ের অধিকার পালন করতে হবে। তার
সঙ্গে সুন্দর আচরণ তোমাকে করতে হবে।
এভাবে তিনবার আল্লাহর রাসুল (সা.)
মায়ের সঙ্গে সদাচরণ করার
কথা বলেছেন। চতুর্থবার বলেছেন, অতঃপর
তুমি তোমার বাবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ
করবে।’
মায়ের সেবা করা জিহাদের চেয়েও
বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আল্লাহর রাসুল (সা.)
বলেছেন, ‘আল্লাহ ব্যতীত
যদি কাউকে সেজদা করার নির্দেশ হতো,
তবে সন্তানকে নির্দেশ দেয়া হতো তার
মাকে সেজদা করার জন্য।’ আপনি যত বড়
শিক্ষিতই হোন, যত প্রতিভাধরই হোন,
আপনার মা অশিক্ষিতা হলেও মায়ের
পায়ের নিচেই আপনার জান্নাত।
যে সন্তান মায়ের সান্নিধ্য গ্রহণ করার
পাশাপাশি মাকে সন্তুষ্ট
করতে পেরেছে তারাই সাফল্যের সন্ধান
পেয়েছে। সন্তানের কামিয়াবি নিহিত
আছে মায়ের দোয়ায়।
আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরানে ইরশাদ
করেছেন, ‘আর তোমার
পালনকর্তা (কতিপয়) সিদ্ধান্ত দিয়েছেন
(তা এই) যে, তোমরা কেবলমাত্র তাঁরই
ইবাদত করবে এবং পিতা-মাতার
সঙ্গে সুব্যবহার করবে। যদি তাদের
মধ্যে একজন কিংবা দু’জনই তোমার
কাছে বৃদ্ধ বয়সে অবশ্যই পৌঁছে যায়,
তাহলে (তাদের
খিটখিটে ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে) তাদের
তুমি উহ্ শব্দও বলবে না এবং তাদের ধমকও
দেবে না। আর তাদের
সঙ্গে তুমি সম্মানজনক
কথা বলবে এবং তাদের জন্য দোয়ার মধ্য
থেকে নম্রতার বাহু ঝুঁকিয়ে দাও। আর
তাদের জন্য দোয়াস্বরূপ এ কথা বলবে,
হে আমার পালনকর্তা, তাদের দু’জনের ওপর
ঐরূপ দয়া কর, যেরূপ
তারা আমাকে ছোটবেলায় লালন-পালন
করেছিলেন (সুরা বনি ইসরাইল, ২৩-২৪
আয়াত)।
ওই আয়াত দু’টিতে আল্লাহ
তায়ালা মানুষকে ৫টি নির্দেশ
দিয়েছেন। ১. তাঁর ইবাদতের পরেই পিতা-
মাতার সঙ্গে সুব্যবহার করা। ২. পিতা-
মাতাকে বৃদ্ধ বয়সে পেলে তাদের
খিটখিটে মেজাজের কারণে বিরক্ত
হয়ে তাদের ‘উহ্’ শব্দও না বলা। ৩. তাদের
ধমক না দেয়া। ৪. তাদের মানসম্মান
রেখে কথা বলা এবং শক্তির গরম
না দেখানো। ৫. তাদের প্রতি দয়া করার
জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা।
সন্তানের লালন-পালন ও উত্তম চরিত্র
গঠনে মায়ের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি।
তার কোলই সন্তানের প্রথম পাঠশালা।
মায়ের কাছ থেকেই সন্তান গ্রহণ
করে জীবনের প্রথম পাঠ। তার ভাষায়ই
ফোটে প্রথম কথা। মায়ের আচরণ থেকেই
সে শিখে জীবনযাপনের পথ ও পাথেয়।
শৈশব-কৈশোরে সন্তানের
মধ্যে যে স্বভাব-চরিত্র গড়ে ওঠে, তা-ই
তার জীবনের ভিত্তি এবং মৌলিক
দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করে।
সন্তানকে মায়ের কোলে থাকতেই সঠিক
শিক্ষা-দীক্ষায় গড়ে না তুললে, আদব-
কায়দা না শেখালে পরে কোনো ব্যবস্থাই
কাক্সিক্ষত ফলদায়ক হয় না। বিখ্যাত
সাহাবি ইবনে মাসউদ বলেন, একবার
আমি হজরত নবী করীমকে (সা.) জিজ্ঞেস
করলাম, কোন কাজটা আল্লাহর
কাছে সবচেয়ে প্রিয়? তিনি বললেন,
সঠিক সময়ে নামাজ পড়া। আমি বললাম,
তারপর? তিনি বললেন, পিতা-মাতার
সঙ্গে সদ্ব্যবহার। আমি বললাম, তারপর?
তিনি বললেন, আল্লাহর পথে সংগ্রাম
(বুখারি, মুসলিম, মিশকাত)। সাহাবি আবু
উমামাহ (রা.) বলেন, একজন লোক বলল,
হে আল্লাহর রাসুল (সা.) সন্তানের ওপর
পিতা-মাতার অধিকার কী? তিনি (সা.)
বললেন, তারা দু’জন তোমার জান্নাত
অথবা তোমার জাহান্নাম (ইবনে মাজাহ,
মিশকাত)। আল্লাহ আমাদের
সবাইকে ইসলামের আদর্শ মোতাবেক
মায়ের মর্যাদা প্রদান করার তাওফিক দান
করুন। আমিন।

ভুলবশত দাঁড়িয়ে পানি পান করলে কী হয়?

আরবি হাদিস
ﻭَﻋَﻦ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳﺮَﺓَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ : ‏«
ﻻَ ﻳَﺸْﺮَﺑَﻦَّ ﺃﺣَﺪٌ ﻣِﻨْﻜُﻢْ ﻗَﺎﺋِﻤﺎً، ﻓَﻤَﻦْ ﻧَﺴِﻲَ ﻓَﻠْﻴَﺴْﺘَﻘِﻲﺀ ‏». ﺭﻭﺍﻩ
ﻣﺴﻠﻢ
বাংলা হাদিস
আবূ হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
তোমাদের কেউ যেন অবশ্যই
দাঁড়িয়ে পান না করে। আর যদি ভুলে যায়
(ভুলবশতঃ পান করে ফেলে),
তাহলে সে যেন বমি করে দেয়।
[মুসলিম ২০২৬, আহমদ ৮১৩৫]

বাান্দার ওপর আল্লাহ প্রদত্ত নেয়ামতের প্রভাব-চিহ্ন কী?


আরবি হাদিস
ﻋَﻦ ﻋَﻤﺮِﻭ ﺑﻦِ ﺷُﻌَﻴﺐٍ، ﻋَﻦ ﺃَﺑﻴﻪِ، ﻋَﻦ ﺟَﺪِّﻩِ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ،
ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ : ‏« ﺇﻥَّ ﺍﻟﻠﻪَ ﻳُﺤِﺐُّ ﺃﻥْ ﻳُﺮَﻯ ﺃﺛَﺮُ ﻧِﻌْﻤَﺘِﻪِ
ﻋَﻠَﻰ ﻋَﺒْﺪِﻩِ ‏» . ﺭﻭﺍﻩ ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ : ‏«ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ »
বাংলা হাদিস
আমর ইবনে শুআইব স্বীয় পিতা হতে,
তিনি স্বীয় দাদা হতে বর্ণনা করেছেন,
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়
আল্লাহ পছন্দ করেন যে, তাঁর বান্দার উপর
তাঁর প্রদত্ত নেয়ামতের প্রভাব ও চিহ্ন
দেখা যাক।
[তিরমিযি ২৮১৯]

Friday, March 13, 2015

জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীন দেশে যাও- কথাটি কী সঠিক?


জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রয়োজনে চীন
দেশে যাও- মূল বাক্যটি আরবিতে বলা হয়
এবং এই আরবি বাক্যটি ব্যাপকভাবে হাদিস
হিসাবে প্রচলিত। প্রকৃত পক্ষে এটি হাদিস
নয় বরং পরবর্তীকালের কোনো মুসলিম
মণীষীর বাণী। তবে সন্দেহ নেই যে,
বক্তব্যটি সঠিক ও বাস্তবসম্মত। ইলমে দ্বীন
হাসিলের জন্য যত দূরের সফরই হোক,
তাওফিক হলে করা উচিত। ইলম
অন্বেষণে কখনো মেহনত-মুজাহাদকে ভয়
পাওয়া উচিত নয়। তদ্রূপ পার্থিব
জীবনে প্রয়োজনীয় শিল্প ও
বিদ্যা শিক্ষার জন্যও দূর দূরান্তে সফর
করা জায়েয; বরং তা একটি পর্যায় পর্যন্ত
কাম্যও বটে।
এই সকল কিছু স্বস্থানে বিদ্যমান
আছে এবং শরিয়তের বিভিন্ন দলিল
দ্বারা তা প্রমাণিত এবং ইলম বা জ্ঞান
অর্জন করার মানসিকতা বৃদ্ধি করার জন্য
উতসাহব্যঞ্জক এমন কথার গুরুত্বও রয়েছে।
কিন্তু আলোচ্য বাক্যটি হাদিস নয়। যদিও
তা হাদিস হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে,
কিন্তু এই বাক্যটি হাদিস হিসেবে বর্ণনার
সনদে আবু আতিবা তরিফ ইবনে সুলায়মান
নামক একজন রাবি(বর্ণনাকারীর)নাম
আছে রয়েছে; হাদিস শাস্ত্রের
ইমামগণের দৃষ্টিতে যিনি মতারূক
(পরিত্যক্ত)। তাকে হাদিস জাল করার
অভিযোগেও অভিযুক্ত করা হয়েছে।
সুতরাং হাদিস জাল করার
অভিযোগে অভিযুক্ত
কারো বর্ণনাকে হাদিস হিসেবে গ্রহণ
করার যৌক্তিকতা ইলমে হাদিস
শাস্ত্রে নেই।
আর রিহালাতু ফি তালাবিল ইলম নামক
একটি আরবি কিতাবের মাঝে এই
উক্তিটিকে হাদিস হিসেবে উপস্থাপণ
করার জন্য যে কয়টি সনদ ব্যবহার
করা হয়েছে তার সবকটি সনদই হাদিস
শাস্ত্রের বিচারে দূর্বল এবং এই গ্রন্থ
লেখক নিজেও বর্ণনার
শেষে এসে স্বীকার করেছেন
যে এটি একটি দূর্বল বর্ণনা।
শেষ কথা হলো-
ভালো যে কোনো কথাই ভালো, সত্য
যে কোনো কথাই সুন্দর। তাই বলে সব
ভালো এবং সত্য কথাকেই যে হাদিস
বা রাসুলের
কথা বলে চালিয়ে নিতে হবে, এমন কথার
স্বীকৃতি ইসলাম দেয়নি।
দেখুন- রিজাল ও রেওয়ায়েত-শাস্ত্রের
বিখ্যাত ইমাম আবু জাফর উকাইলি লেখেন-
(আরবী) -আয-যুআফাউল কাবীর,
উকাইলী ২/২৩০; কিতাবুল মাজরূহীন,
ইবনে হিব্বান ১/৩৮২; মিযানুল ইতিদাল
২/২৫৮; আলমুনতাখাব মিনাল ইলাল লিল-
খাল্লাল ইবনে কুদামাহ পৃ. ১২৯-১৩০;
আলমাকাসিদুল হাসানাহ, সাখাভী পৃ. ১২১

পেশাব লাগা জায়নামাজে নামাজ হবে কি?


মনে করুন, আপনার জায়নামাযের উপরের
অংশে এক কোণে বাচ্চার পেশাব
লেগে প্রায় অর্ধ হাত ছড়িয়ে গেছে।
নামাযের ওয়াক্ত হলে ওই জায়নামায
বিছিয়েই নামায আদায় করেন। যেহেতু
পেশাব এক কোণে ছিল তাই নামায পড়ার
সময় শরীর ও কাপড়ের কোনো অংশ নাপাক
স্থানটিতে পড়েনা। এভাবে নামায
কি আদায় হয়েছে?
বর্ণনা অনুযায়ী নামাযের
হালতে শরীরের কোনো অংশ যেহেতু
নাপাক জায়গায় লাগেনি তাই নামায
সহীহ হয়ে গেছে। অবশ্য এ ধরনের আংশিক
নাপাক জায়নামাযেও নামায পড়া ঠিক নয়।
কেননা আল্লাহ তাআলা পবিত্র,
তিনি পবিত্রতাকে পছন্দ করেন।
[ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৬১;
ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১/৪১৮;শরহুল
মুনইয়াহ ২০০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৩]

পুরুষের জন্য যে দুইটি বস্তুকে হারাম ঘোষণা করেছেন?


ﻭَﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪعنه، ﻗَﺎﻝَ : ﺭَﺃَﻳﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ ﺃﺧَﺬَ
ﺣَﺮِﻳﺮﺍً، ﻓَﺠَﻌَﻠَﻪُ ﻓِﻲ ﻳَﻤِﻴﻨﻪِ، ﻭَﺫَﻫَﺒَﺎً ﻓَﺠَﻌَﻠَﻪُ ﻓِﻲ ﺷِﻤَﺎﻟِﻪِ، ﺛُﻢَّ
ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﺇﻥَّ ﻫَﺬَﻳْﻦِ ﺣَﺮَﺍﻡٌ ﻋَﻠَﻰ ﺫُﻛُﻮﺭِ ﺃُﻣَّﺘِﻲ ‏». ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ
ﺑﺈﺳﻨﺎﺩٍ ﺻﺤﻴﺢٍ
বাংলা হাদিস
আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখেছি,
তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম
হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, আমার
উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দুটি বস্তু হারাম।
[আবু দাউদ ৪০৫৭, নাসায়ি ৫১৪৪, ইবন মাজাহ

নৈতিক গুণাবলি বিকাশের ক্ষেত্রে ইসলামের ভূমিকা কী?


মানুষের মধ্যে নৈতিক গুণাবলি বিকাশের
ক্ষেত্রে ধর্মের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে মানবতার মুক্তির একমাত্র
পাথেয় পবিত্র ধর্ম
ইসলামে নৈতিকতাকে সর্বাধিক গুরুত্ব
দেয়া হয়েছে। নৈতিকতার
সপক্ষে এবং এর
প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বর্ণনায় পবিত্র
কোরানে ইরশাদ হয়েছে, ‘শপথ মানুষের
এবং তার, যিনি তাকে সুঠাম করেছেন।
অতঃপর তাকে তার সৎকর্ম ও অসৎকর্মের
জ্ঞানদান করেছেন। সেই সফলকাম
হবে যে নিজকে পবিত্র করবে এবং সে-ই
ব্যর্থ হবে যে নিজকে কলুষাচ্ছন্ন
করবে।’ (সুরা শামস, আয়াত ৭-১০)।
পবিত্র কোরানে উত্তম নৈতিক
মূল্যবোধের সব মৌলিক বৈশিষ্ট্যগুলোক
একত্রে সন্নিবেশিত করে আল্লাহ
তায়ালা ঘোষণা করেন ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ
তায়ালা তোমাদের সুবিচার, কল্যাণ
কামনা ও আত্মীয়তার বন্ধনকে সুদৃঢ় করার
নির্দেশ দেন এবং অন্যায়-অশ্লীলতা, জুলুম
ও খোদাদ্রোহিতা থেকে বিরত থাকার
নির্দেশ দেন। আল্লাহ তোমাদের নসিহত
করেন এ জন্য যে,
যাতে তোমরা শিক্ষা গ্রহণ
করতে পার।’ (সুরা নাহল, আয়াত-৯০)
নবী করিম (সা.) ছিলেন উন্নত ও উত্তম
নৈতিকতার এক অনুপম আদর্শ। স্বয়ং আল্লাহ
রাব্বুল আলামিন তাকে সার্টিফাই করেন
এভাবে ‘নিশ্চয়ই আপনি মহান
চরিত্রে অধিষ্ঠিত।’ (সুরা কলম. আয়াত-৪)।
নবী করিম (সা.)-এর নৈতিকতার
উল্লেখযোগ্য মৌলিক গুণাবলি ছিল
ন্যায়বিচার, ইনসাফ, আল্লাহর রাস্তায় ব্যয়,
বিশ্বস্ততা, ওয়াদা পালন, সততা,
কর্তব্যবোধ, শালীনতা, বদান্যতা, সঠিক
পন্থা গ্রহণ, ন্যায়পরায়ণতা,
প্রয়োজনে প্রতিশোধ গ্রহণ, উদারতা,
মধ্যপন্থা প্রভৃতি। এ মহৎ কাজগুলো শুধু
নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করেই
তিনি ক্ষান্ত হননি বরং নৈতিক মূল্যবোধ ও
নৈতিক আচরণগুলোর প্রতি যে উৎসাহ
এবং প্রেরণা দিয়েছেন তা সত্যিই অনন্য।
হাদিসে এসেছে, হজরত নাওয়াস
ইবনে সাময়ান বর্ণনা করেন,
‘একদা রাসুলকে (সা.) নেক ও বদ আমল
সম্পর্কে প্রশ্ন
করা হলে তদুত্তরে তিনি বলেন, নেক
আমল হচ্ছে উত্তম চরিত্র আর বদ আমল
হচ্ছে যে কাজ তোমার বিবেকের
কাছে সদ্বিগ্ন মনে হয়, আর তা লোকের
কাছে প্রকাশ হয়ে পড়ুক এটা তুমি চাও
না।’ (মুসলিম, তিরমিজী)। অন্যত্র বর্ণিত
হচ্ছে, নবী করিম (সা.) বলেছেন
‘কিয়ামতের দিন মমিনের নেকের
পাল্লা ভারি করার মতো উত্তম চরিত্রের
চেয়ে ভারি কোনো আমল নেই। আর
অবশ্যই আল্লাহ অশ্লীল ও অশ্রাব্য
গালিগালাজকারীর ওপর অসন্তুষ্ট।
(তিরমিজী ও ইবনে মাজাহ)।
সুতরাং কোরান ও হাদিসে নৈতিকতার
প্রতি যে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, উন্নত
নৈতিক গুণাবলি মেনে চলার যে ফজিলত
বর্ণনা করা হয়েছে তা কারো জানার
মধ্যে নয় বরং মানার মধ্যেই
রয়েছে যথার্থ সার্থকতা।
মাওলানা মিরাজ রহমান

নিজ ঘরের বাহিরে নারীদের দ্বীনি তালিম করা বৈধ কিনা?

একটি এলাকায় নারীদের তালিম করার
বর্নণা, ঠিক এমনটাই-
একটি আলাদা ঘরে পূর্ণ পর্দার
সাথে সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও সোমবার
বাদ যোহর দ্বীনি বিষয় ও
মাসআলা মাসায়েল আলোচনা করা হয়।
একজন মহিলা মজলিসটি পরিচালনা করেন।
এতে আশপাশের মহিলারাই অংশগ্রহণ
করেন। তবে পাঁচ-ছয় মাইল
দূরবর্তী এলাকার স্বল্প সংখ্যক মহিলাও
অভিভাবকের অনুমতিক্রমে মাহরাম
ছাড়া এসে থাকেন। পাঁচ-ছয় মাইল দূর
থেকে মাহরাম ছাড়া আসাকে কেন্দ্র
করে কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছে।
এখানে জানার বিষয় হলো তিনটি- ক)
পার্শ্ববর্তী ও পাঁচ-ছয় মাইল দূর
থেকে পর্দার সাথে মহিলাদের মাহরাম
ছাড়া আসাটা কেমন? খ)
পর্দা রক্ষা করে কোনো মহিলা নিজ
বাড়িতে তালীমের
ব্যবস্থা করতে পারবে কি না?
ক) মহিলাদের শিক্ষার ব্যবস্থা প্রধানত
নিজ ঘরেই হওয়া চাই। তারা মাহরাম পুরুষ
যথা বাপ, দাদা, আপন ভাই, চাচা, মামার
কাছে দ্বীন শিক্ষা করবে। হ্যাঁ,
মাহরামদের মধ্যে যোগ্য আলেম
না পাওয়া গেলে নিজ মহল্লার
কোনো দ্বীনী শিক্ষায় শিক্ষিত
দ্বীনদার মহিলার নিকট গিয়ে দ্বীন
শিক্ষা করবে। তবে শর্ত হল,
স্বামী বা অভিভাবকের
অনুমতি নিয়ে পূর্ণ শরয়ী পর্দার
সাথে আসা যাওয়া করবে এবং সন্ধ্যার
পূর্বেই ঘরে পৌঁছে যাবে। তাই
কোনো মহল্লায় মহিলারা কর্তৃক
আয়োজিত তালীমের মজলিসে অন্য
নারীরা আসতে পারেন। তবে পাঁচ-ছয়
মাইল দূর
থেকে এভাবে তালীমে আসা সমীচীন
নয়; তারা নিজেদের মহল্লায় তালীমের
ব্যবস্থা করবেন
এবং ঘরে বসে দ্বীনী কিতাবপত্র পাঠ
করবেন। [সূরা আহযাব : ৩৩; আহকামুল কুরআন,
জাসসাস ৩/৩৬০]
খ) প্রত্যেক নর-নারীর প্রয়োজনীয় দ্বীন
শিক্ষা করা ফরজ। আর পূর্ণ পর্দার
সাথে অভিজ্ঞ
শিক্ষিকা দ্বারা দ্বীনী শিক্ষার
ব্যবস্থা করা প্রশংসণীয় ও ছওয়াবের কাজ।
মহিলাদের জন্য দ্বীনী তালীমের
ব্যবস্থা করেছেন স্বয়ং রাসূলুল্লাহ
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।
হাদীস শরীফে আছে, একদিন
মহিলা সাহাবীগণ নবী করীম
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর
কাছে আরয করলেন, পুরুষদের
কারণে আমরা আপনার
নিকটবর্তী হতে পারি না। তাই
আপনি আমাদের জন্য আলাদা একটি দিন
নির্ধারণ করুন। তিনি তাদের জন্য
বিশেষভাবে এক দিনের ওয়াদা করলেন
এবং বললেন, তোমরা অমুক দিন অমুকের
বাড়িতে একত্র হও। এরপর তিনি সেদিন
তাদের কাছে গিয়ে ওয়াজ করলেন।
[সহীহ বুখারী ১/২০; উমদাতুল কারী ২/১২৩ ]

নারীরা তাদের কাপড়ের নিম্নভাগ কীভাবে রাখবে?


আরবি  হাদীদ

ﻭَﻋَﻦْ ﺍﺑﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ، ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠﻪِ ﷺ : ‏« ﻣَﻦْ
ﺟَﺮَّ ﺛَﻮْﺑَﻪُ ﺧُﻴَﻼَﺀَ ﻟَﻢْ ﻳَﻨْﻈُﺮِ ﺍﻟﻠﻪُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻳَﻮْﻡَ ﺍﻟﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ‏». ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ ﺃُﻡُّ
ﺳَﻠَﻤَﺔَ : ﻓَﻜَﻴْﻒَ ﺗَﺼْﻨَﻊُ ﺍﻟﻨِّﺴَﺎﺀُ ﺑﺬُﻳُﻮﻟِﻬِﻦَّ ؟ ﻗَﺎﻝَ : ‏« ﻳُﺮْﺧِﻴﻦَ ﺷِﺒْﺮﺍً
‏». ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﺇِﺫَﺍً ﺗَﻨْﻜَﺸِﻒُ ﺃﻗْﺪَﺍﻣُﻬُﻦَّ . ﻗَﺎﻝَ : ‏«ﻓَﻴُﺮﺧِﻴﻨَﻪُ ﺫِﺭَﺍﻋﺎً ﻻَ
ﻳَﺰِﺩْﻥَ ‏» ﺭﻭﺍﻩ ﺃَﺑُﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ، ﻭﻗﺎﻝ : ‏«ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ
ﺻﺤﻴﺢ»
বাংলা হাদিস
ইবনে উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু
হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
অহংকারবশতঃ যে ব্যক্তি গাঁটের
নীচে কাপড় ঝুলিয়ে পরবে, কিয়ামতের
দিন আল্লাহ তাআলা তার দিকে (করুণার
দৃষ্টিতে) দেখবেন না। উম্মে সালামাহ
প্রশ্ন করলেন, তাহলে মহিলারা তাদের
কাপড়ের নিম্নপ্রান্তের
ব্যাপারে কী করবে? তিনি বললেন, আধ
হাত বেশী ঝুলাবে। উম্মে সালামাহ
বললেন, তাহলে তো তাদের পায়ের
পাতা খোলা যাবে! তিনি বললেন,
তাহলে এক হাত পর্যন্ত নীচে ঝুলাবে;
তার বেশী নয়।
[বুখারি ৩৪৮৫, ৩৬৬৫, ৫৭৮৩, ৫৭৮৪, ৫৭৯১,
মুসলিম ২০৮৫, ২০৮৬, তিরমিযি ১৭৩১,
নাসায়ি ৪৩২৬, ৪৩২৭, ৪৩২৮, ৫৩৩৫, ৫৩৩৬, আবু
দাউদ ৪০৮৫, ৪০৯৪, ইবন মাজাহ ৩৫৬৯, আহমদ
৪৪৭৫, ৪৫৫৩, ৪৮৬৯, ৪৯৯৪, ৫০১৮, ৫০৩০,৫০৩৫,
৫১৫১, ৫১৬৬, ৫২২৬, ৫৩০৫, ৫৩১৮, ৫৩২৮,
মুওয়াত্তা মালেক ১৬৯২, ১৬৯৮]

নারীদের চেহারা ঢাকার কথা কোরান- হাদিসে নেই, কথাটি কি সহিহ?

কিছু দিন আগে কোন এক দেশে আইন
করা হয় যে,
মহিলারা বোরকা পরতে পারবে,
তবে চেহারা ঢাকতে পারবে না।
তাদেরকে মুখমন্ডল খোলা রাখতে হবে।
এ বিষয়ে একজন বললেন, এতে শরীয়ত-
বিরোধী কিছু নেই। কারণ মহিলাদের
চেহারা ঢাকতে হবে এমন কথা কুরআন-
হাদীসে নেই। তাই চেহারার
পর্দা জরুরি নয়। তার এ কথা কতটুকু সত্য? ঐ
ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। পরপুরুষের
সামনে নারীকে তার
চেহারা ঢেকে রাখতে হবে। এটি কুরআন-
সুন্নাহর বিধান। উম্মাহাতুল মুমিনীন ও
অন্যান্য সাহাবিয়ার আমল দ্বারাও
তা প্রমাণিত। নিম্নে কয়েকটি দলীল
উল্লেখ করা হল। কুরআন মজীদে আল্লাহ
তাআলা ইরশাদ করেছেন, হে নবী!
আপনি বলুন, নিজের স্ত্রী-কন্যা ও
মুমিনদের স্ত্রীগণকে, তারা যেন
টেনে নেয় নিজেদের উপর তাদের
চাদরের কিছু অংশ। (সূরা আহযাব : ৫৯)
এ আয়াতের তাফসীরে হযরত আবদুল্লাহ
ইবনে আববাস রা. বলেন, আল্লাহ
তাআলা মুমিনদের স্ত্রীগণকে আদেশ
করেছেন, তারা যখন
কোনো প্রয়োজনে ঘর থেকে বের
হবে তখন যেন মাথার উপর থেকে চাদর
টেনে নিজেদের চেহারা ঢেকে নেয়।
এবং শুধু এক চোখ খোলা রাখে।
(তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮২৪) ইমাম
জাসসাস রাহ. বলেন, এই
আয়াতে যুবতী নারীদেরকে পরপুরুষের
সামনে চেহারা ঢেকে রাখার আদেশ
করা হয়েছে। (আহকামুল কুরআন, জাসসাস
৩/৩৭২) আরো দেখুন :
তাফসীরে কুরতুবী ১৪/১৫৬; জামেউল
বয়ান, তবারী ১০/৩৩১; তাফসীরে রূহুল
মাআনী ২২/৮৮
আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. হজ্বের
সফরের বিবরণ দিয়ে বলেন, আমরা ইহরাম
অবস্থায় রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে ছিলাম।
আমাদের পাশ দিয়ে অনেক
কাফেলা অতিক্রম করত। তারা আমাদের
সামনে এলে নিজেদের চেহারার উপর
ওড়না ঝুলিয়ে দিতাম। তারা অতিক্রম
করে চলে যাওয়ার পর
ওড়না সরিয়ে ফেলতাম। (সুনানে আবু দাউদ
২/৪৫৭) আম্মাজান হযরত আয়েশা রা. অন্য
এক সফরের কথা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন,
অতপর সাফওয়ান ইবনে মুআত্তাল
আসসুলামী সকালে আমার
অবস্থানস্থলে পৌঁছল। সে একজন ঘুমন্ত
মানুষের আকৃতি দেখে আমার নিকট এল
এবং আমাকে চিনে ফেলল। কেননা,
পর্দার বিধান নাযিল হওয়ার
আগে সে আমাকে দেখেছিল। তখন
সে জোরে ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না
ইলাইহি রাজিউন’ পাঠ করল, যার
শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে যায়।
সাথে সাথে আমি ওড়না দ্বারা মুখমন্ডল
আবৃত করে ফেলি। (সহীহ বুখারী, হাদীস :
৪৮৫০)
হযরত আসমা বিনতে আবু বকর রা. বলেন,
আমরা পর পুরুষের সামনে আমাদের
চেহারা ঢেকে রাখতাম।
(মুসতাদরাকে হাকীম ২/১০৪) আরো দেখুন :
তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৮০৪; আহকামুল
কুরআন, জাসসাস ৩/৩৬৯; সহীহ বুখারী,
হাদীস : ৩২৪, ৪৭৫৭, ১৮৩৮; ফাতহুল
বারী ২/৫০৫, ৮/৩৪৭; উমদাতুল কারী ৪/৩০৫;
মাআরিফুস সুনান ৬/৯৮; তাকমিলা ফাতহুল
মুলহিম ৪/২৬৮; মাজমুআতুল ফাতাওয়া,
ইবনে তাইমিয়া ২২/১০৯, ১১৪ মোটকথা,
কুরআন-হাদীসের ভাষ্য এটাই যে,
মহিলারা পরপুরুষের সামনে নিজেদের
মুখমন্ডল আবৃত রাখবে। এটা পর্দারই অংশ।
প্রকাশ থাকে যে,
কোনো কোনো দেশে নারীর মুখমন্ডল
খোলা রাখার যে আইন করা হয়েছে তা এ
কারণে করা হয়নি যে, ইসলামের
দৃষ্টিতে চেহারার পর্দা নেই। বরং এ
আইনের পিছনে ইসলামের প্রতি তাদের
অব্যাহত বিদ্বেষ এবং মুসলমানদের
কোনঠাসা করার প্রবণতাও কার্যকর। এ আইন
তাদেরই কথিত মানবাধিকার, গণতান্ত্রিক
অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার সম্পূর্ণ
বিরোধী। তাই এই আইন আন্তর্জাতিক
অঙ্গণেও ধিকৃত হয়েছে।