Showing posts with label জানা অজানা. Show all posts
Showing posts with label জানা অজানা. Show all posts

Friday, January 15, 2016

সাপের ছয় পা কি কেউ কখনো দেখেছেন?


আমর সাধারণত বলে থাকি ‘তুমি কি   সাপের পাঁচ পা দেখেছো কখনও?  হয়তো সে বলবে, পাঁচ   আবার দেখা যায় না কি???

আরও লক্ষ বছর আগে জন্মালে পাঁচ না হোক, চার পা কিন্তু দেখাই যেত। গর্তবাসী হওয়ায় যা কালে কালে বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে।

সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি অফ এডিনবার্গের বিজ্ঞানীরা ডিনিলাইসিয়া পাটাগোনিকা নামে এক বিলুপ্ত প্রজাতির সাপের সঙ্গে আধুনিক সরীসৃপের মাথার গঠনের তুলনা করেছেন।

 দেখা গিয়েছে, আধুনিক সরীসৃপের সঙ্গে ডিনিলাইসিয়ার মাথার যথেষ্ট মিল রয়েছে। আর তাতেই পরিষ্কার, সাঁতারের সুবিধার জন্য নয়, গর্তবাসী হওয়ার কারণেই সাপেরা পা খুইয়েছে।

অনেকটা যেমন, ব্যাঙাচি থেকে পূর্ণাঙ্গ দশায় রূপান্তরের জন্য লেজ খোয়াতে হয় ব্যাঙেদের। আগে সাপের প্রজাতিরও না কি পা ছিল। খাদ্য এবং বাসস্থান-উভয়ের জন্যই ধীরে ধীরে গর্তের উপরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে তারা। গর্তবাসী এই সরীসৃপের পায়ের ব্যবহার তেমন ছিল না। কালক্রমে যা পুরোপুরি লুপ্ত হয়ে যায়।

পৃথিবীর ১০টি বিস্ময়কর স্থান, যেটা আপনি জানতেন না

পৃথিবীতে এখনো এমন অনেক যায়গা রয়েছে যেটা রীতিমত বিস্ময়কর এবং আমাদের অজানা। আজকে মুক্তমঞ্চ.কম আপনাদের সেই অপরিচিত কিন্তু বিস্ময়কর যায়গাগুলো নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছেঃ
১০) লেক হিলিয়ার, অষ্ট্রেলিয়া






eye-of-the-sahara-muktomoncho

লেক হিলিয়ার সারা পৃথিবীর ভিতরে অন্যতম রহস্যময় স্থান। এটি মূলত একটি লেক। কিন্তু এই লেকের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এর পানি পুরোটাই গোলাপী বর্নের। মনে হবে ষ্ট্রবেরী মিল্ক শেক তৈরি করা হয়েছে। এটি প্রায় ২০০০ ফিট লম্বা এবং ৬০০ ফিট চওড়া। লেকের চারপাশে রয়েছে সাদা মাটির কাদা। রেড হাইলোপিলিক নামের এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া বেশী থাকার কারনে এর পানি গোলাপী বর্ন ধারন করেছে। আর বিস্ময়কর ব্যাপার হলো এটি পানি সম্পূর্ন নিরাপদ, শুধু রং টা গোলাপী এই হচ্ছে ব্যাপার।
০৯) ডেড ভ্যালি, নামিবিয়া
দেখলে মনে হবে অন্য কোন গ্রহে চলে এসেছি। কোথাও্ এক ফোঁটা পানি নেই। গাছগুলো মরে গেছে। শুধু রয়েছে গাজের কংকাল। তাই আকাশও পানি শূন্যতায় সব সময় লাল মেঘে ঢাকা থাকে। সাক্ষাৎ মঙ্গলগ্রহের মতো লাগে দেখতে। সত্যিই বিস্ময়কর স্থান।
০৮) জাঙ্গিং ড্যাংক্সিয়া ল্যান্ড ফর্ম, চায়না
চীনের গাংডু প্রদেশে অবস্থিত এই পাহাড়গুলো বিভিন্ন রংয়ের হয়ে থাকে। প্রথমে দেখলে মনে হবে কোন শিল্পী তার রংতুলির আঁচড় প্রতিটা পাহাড়ে লেপে দিয়েছেন। কিন্তু নাহ! প্রাকৃতিকভাবেই প্রত্যেকটা পাহাড় লাল, গোলাপী, সবুজ, হলুদ রংয়ের। বৃষ্টির সময় ধুলো মুছে গিয়ে একদম চকচক করে। প্রথম দেখে যে কারো বিস্ময়কর লাগবে।
০৭) এ্যাচান্টেড ওয়েল, ব্রাজিল
চাপাডা দিয়ামান্তনা ন্যাশনাল পার্ক, ব্রাজিলে অবস্থিত বিশেষ একটি কুয়া। যেটি প্রায় ১২৫ ফুট গভীর। মজার ব্যাপার হচ্ছে সূর্যের আলো যখন পানিতে পরে তখন একদম নিচ পর্যন্ত দেখা যায়। আর বিশেষত্ব হচ্ছে সূর্যের আলী পরলে এর পানি নীল বর্ন ধারন করে।
০৬) মাউন্ট রোরোমিয়া, সাউথ আমেরিকা
দূর থেকে দেখলে মনে হবে মানবসৃষ্ট কোন বিশাল আকৃতির দুর্গ। কিন্তু হাজার হাজার বছর পূর্বে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে এই রকম সৃষ্টি হয়েছে। ব্রাজিল, ভেনেজুয়ালা সহ আরো একটি দেশের বর্ডারে এটি অবস্থিত। এটি এতই খারা পাহাড় যে, এটির উপরে ওঠা এখনও কারও সম্ভব হয়নি। মানুষ অনেক যায়গা জয় করলেও এটি এখনো কিভাবে জয় করতে পারেনি সেটাই বিস্ময়কর ব্যাপার।
০৫) তার্কুইস আইস, লেক বৈকাল, রাশিয়া
শীতের সময় এই লেকের পানি জমে বরফ হয়ে এতটাই ক্রিষ্টাল ক্লিয়ার হয়ে যায় যে, বরফগুলো হিরে জহরতের মতো চিকচিক করে আর মনে হবে আপনি কোন হিরের জগতে চলে এসেছেন।
০৪) চকলেট হিলস, ফিলিপাইন
ফিলিপাইনের বোহো দ্বীপে অবস্থিত এই পাহাড়গুলোর নাম চকলেট হিলস। সারা বছর পাহাড়গুলো সবুজ বর্নের থাকলেও গ্রীষ্মসহ যে কোন শুষ্ক মৌসুমে এর লতাপাতাগুলো ব্রাউন বা বাদামী কালার ধারন করে, ফলে দুর থেকে দেখলে মনে হয় আপনি কিকক্যাট চকলেটের জগতে চলে এসছেন।
০৩) দি ক্রিষ্টাল কার্ভেনস, মেক্সিকো
এটি মূলত একটি জিপসামের খনি। মাটির প্রায় ১০০০ ফুট নিচে মেকিক্সোর এই খনিটির নাম নাইকা সিলভার মাইন। প্রায় ৩৬টির মতো সলিড ক্রিষ্টাল আছে এখানে। ধারনা করা হয় অগ্ন্যৎপাতের ফলে হাজার বছর পূর্বে এটি সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম দেখলে মনে হবে আপনি বোম্বে স্যুইটসের পটেটো স্টিকস দেখছেন।

০২) দি আই অব সাহারা, আফ্রিকা
এটিকে সাহারার চোখ বলা হয়। হঠাৎ দেখলে মনে হবে কোন এক কালে এখানে এলিয়েনদের যান নেমেছিলো। বিশাল এলাকা জুড়ে গোল গোল সার্কেল আছে এখানে। পরে এটির আয়তন মেপে দেখা যায় প্রায় ২৫-৩০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে এর অবস্থান। এটি সাহারা মরুভূমির একদম মাঝখানে অবস্থিত। এখানে একা গেলে আর ফিরে আসা যায়না। এতই গরম যে এখান থেকে লাভার মতো তাপ বের হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে এটি সর্ব প্রথম আবিষ্কার হয় মহাকাশ থেকে। একজন নভোচারী এই যায়গা দেখে পরে এখানে হেলিকপ্টারে আসেন। কেননা হেটে আসার আগেই যে কেউ প্রচন্ড তাপে, তেষ্টায় মারা যাবে।
০১) তিয়ানজি মাউন্টেন, চায়না
জেমস ক্যামেরুনের এভাটার মুভিটা নিশ্চয়ই দেখেছেন? এই পাহাড়গুলো সেই মুভিতেই দেখা গেছে। যদিও প্রথমে সবাই ভেবেছিলো সেগুলো ভিজ্যুয়াল এফেক্ট দিয়ে তৈরি করা কিন্তু সত্যি এই পাহাড়গুলোর খোঁজ পাওয়া যায় চীনে। এগুলো এতো খাড়া আর এতো সরু যে, এখানে মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব নয়। হাজার হাজার বছর ধরে এই পাহাড়গুলো এভাবেই টিকে আছে।


Sunday, January 10, 2016

বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

রাশিয়াতে দুই প্রজাতির প্রাণীর মধ্যে এমন এক ঘটনা ঘটেছে যা হয়তো কেউ চিন্তাও করতে পারবেনা । প্রায় এক মাস আগে রাশিয়ার একটি সাফারি পার্কে আমুর নামের একটি বাঘকে খাবার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল একটি জ্যান্ত ছাগল। 




কিন্তু ওই ছাগলকে না খেয়ে বাঘটি তার সঙ্গে বন্ধুত্ব পেতে বসেছে। এখন আমুর নামের ওই বাঘ ও তিমুর নামের ওই ছাগলটি পরস্পরের সবচেয়ে কাছের বন্ধু। এমনকি বন্ধু ছাগলের জন্য নিজের ঘুমানোর জায়গাটিও ছেড়ে দিয়েছে বাঘটি। ওই চিড়িয়াখানায় আমুর ও তিমুর অর্থাৎ বাঘ ও ছাগল এখন বিভিন্ন স্থানে একসঙ্গেই ঘুরে বেড়ায়। একসাথে ঘুমায়। বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ এখন এই বাঘ ও ছাগলকে একসঙ্গেই রাখছে। চিড়িয়াখানায় আসা দশনার্থীরা অবাক হচ্ছেন হিংস্র পশু বাঘের সঙ্গে ছাগলকে ঘুরতে দেখে। বাঘে-ছাগলের বন্ধুত্বের ভক্ত হয়ে গেছেন অনেকে। তারা রীতিমতো এদের কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণ করছেন। ওয়েবক্যামের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সরাসরি দেখছেন এই বিরল বন্ধুত্বের দৈনিক কর্মকান্ড। এই দুজনের নামে ফেইসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রামে খোলা হয়েছে অ্যাকাউন্ট। বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!


তিন বছর ধরে চিড়িয়াখানায় থাকা আমুর বাঘকে সপ্তাহে দুইবার জ্যান্ত ছাগল খেতে দিতে হতো চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষকে। বিবিসির মস্কো সংবাদদাতা সারাহ রেইনসফোর্ড ওই চিড়িয়াখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভের সাথে কথা বলেছিলেন। মি: মেজেনস্তেভ বলছিলেন “প্রায় তিন বছর ধরে আমুর এই চিড়িয়াখানায় আছে। সপ্তাহে দুইদিন তাকে ছাগল খেতে দিতে হতো। আমরা একদিন তাকে তিমুর নামের ওই ছাগলকে খেতে দিই। কিন্তু চারদিন পর দেখি বাঘটি তিমুরকে খায়নি। এটা খুবই বিস্ময়কর একটা ঘটনা”। বাঘে-ছাগলে বন্ধুত্ব!

বাঘটি তিমুর নামের ছাগলটিকে চার দিনেও খায়নি, এখনও তারা একসঙ্গেই থাকে। “বাঘটা এতটা ক্ষুধার্ত ছিল সে কয়েক সেকেন্ডে তিমুরকে খেয়ে ফেলতে পারতো। কিন্তু এটা তিমুরেরই সাহসিকতা সে বাঘটির সঙ্গে বন্ধুত্ব পেতেছে। তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছে এদেরকে আলাদা করবোনা, একসাথেই রাখবো”-বলেন চিড়িখানার পরিচালক দিমিত্রি মেজেনস্তেভ। তিনি আরও বলেন “এদের সম্পর্ক দেখে মানুষেরও শেখার কিছু রয়েছে । বিশ্বে যেসব যুদ্ধ হানাহানি চলছে, মানুষ যদি মানবিক হতে শেখে তাহলে নিরীহ প্রাণগুলো বেঁচে যেত”।

বিজ্ঞানের নতুন বিস্ময় ! স্থাপনা তৈরিতে সবুজ ইট



বাড়ি বা স্থাপনা তৈরির জন্য কাদা-মাটির ইট ব্যবহারের কথা অদূর ভবিষ্যতে রূপ কথার গল্পের মতোই শোনাবে। কারণ, বায়োম্যাসোন নামের একটি প্রতিষ্ঠান বালি, ব্যাকটেরিয়া এবং এই ব্যাকটেরিয়াকে দেয়া প্রয়োজনীয় পুষ্টির সাহায্যে পরিবেশবান্ধব অভিনব ইট তৈরি করার এক অনন্য প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে।

জৈবপ্রযুক্তি বিষয়ক প্রাথমিক পর্যায়ের ব্যবসায় উদ্যোগ বায়োম্যাসোন পরিবেশবান্ধব পণ্য উৎপাদনকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান।

প্রাকৃতিক উপায়ে ভবন ও নির্মাণ শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে এই প্রতিষ্ঠান নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অণুজীব এবং রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় জৈব-সিমেন্টভিত্তিক স্থাপত্য নির্মাণ সামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এটি ২০১২ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বায়োম্যসোন কোটি-কোটি অণুজীবের সাহায্যে ভবন নির্মাণে অসাধারণ এক প্রকার ইট উৎপাদন করে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রর উত্তর-ক্যারোলিনাভিত্তিক এই প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জিঞ্জার দোসিয়ে প্রবাল প্রাচীর নিয়ে গবেষণাকালে ব্যাকটেরিয়া উৎপাদন প্রক্রিয়ার রহস্য উন্মোচন করতে সক্ষম হন।

বায়োম্যাসোন প্রক্রিয়ায় ইট উৎপাদনে প্রাথমিক স্তরে বালির প্রয়োজন হয়। প্রথমে এই বালিকে ইট আকৃতির একটি ছাঁচে রাখা হয়। তারপর এই বালিতে বিশেষ উপায়ে এক ধরনের ব্যাকটেরিয়ার মিশ্রণ ঘটানো হয়। বালিতে থাকা ব্যাকটেরিয়ার জন্য খাবার হিসেবে দেয়া হয় জল-মিশ্রিত ক্যালসিয়াম আয়ন। এই আয়নগুলি ব্যাকটেরিয়ার কোষ প্রাচীরে আকৃষ্ট হলে ক্যালসিয়াম কার্বোনেট শেল তৈরি হয়। এতে একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্রিস্টালে রূপান্তরিত হয়। আর এভাবেই তৈরি হয়ে যায় অসামান্য বায়োম্যাসোন ইট।

এই প্রক্রিয়ায় একটি ইট তৈরি হতে সময় লাগে ২ থেকে ৫ দিন। অন্যদিকে সনাতন পদ্ধতিতে ভাঁটায় তৈরি করতে একটি ইটের তিন থেকে পাঁচ দিন সময়ের প্রয়োজন।

এই অভিনব পদ্ধতিতে ইট উদ্ভাবনকারী দোসিয়ে বলেন, ‘আমরা এমন ইট তৈরি করতে পারি যা রাতের অন্ধকারে জ্বল-জ্বল করে, পরিবেশের দূষণ শোষণ করে এবং ভেজা অবস্থায় রঙ পরিবর্তন করতে পারে।’

এই প্রক্রিয়ায় ইট উৎপাদন করতে জ্বালানির দরকার হয় না বলেও দোসিয়ে জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের পরবর্তী লক্ষ হচ্ছে, ক্রেতাদের এই ইট উৎপাদনে সক্ষম করে তোলা যাতে করে তারা নির্মাণাধীন এলাকাতেই এটি তৈরি করতে পারেন। এ জন্য আমরা এর পাউডার বা সিরাপ সংস্করণের কথা ভাবছি। এতে করে এই ইট তৈরি করতে ক্রেতাদের শুধু জল মিশ্রণ করতে হবে। আর তাতেই তৈরি হয়ে যাবে বায়োম্যাসোন ইট।’

শব্দহীন অ্যালার্ম ঘড়ি !


পৃথিবীতে বিরক্তিকর যে কয়টি বিষয় রয়েছে, হয়তো তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ‘অ্যালার্মের কর্কশ আওয়াজ।’ যত মধুর আওয়াজই ঠিক করে রাখা হোক না কেন, সকালে ঘুম ভাঙার সময় তা কখনই মধুর মনে হয় না। আর তাই হয়তো তৈরি করা হচ্ছে নতুন ধারার অ্যালার্ম ঘড়ি সেন্সরওয়েক যা কোনো আওয়াজ বা শব্দ না করেই ঘুম ভাঙাতে পারবে।


আওয়াজের বদলে গন্ধের সাহায্যে ঘুম ভাঙাবে সেন্সরওয়েক। না বাজে কোনো গন্ধ নয়, ভালো গন্ধের মাধ্যমেই ঘুম থেকে উঠতে সাহায্য করবে ভিন্নধারার এই অ্যালার্ম ঘড়িটি। বর্তমানে সেন্সরওয়েক-এ কফি, চকোলেট বা পেপারমিন্ট ইত্যাদি ছয় ধরনের সুগন্ধ রয়েছে।

যে সময়ে উঠতে ইচ্ছুক, সে সময়টি ঠিক করার পাশাপাশি ‘অ্যালার্ম টোন’ ঠিক করার মতো করে ‘অ্যালার্ম সেন্ট’ ঠিক করে রাখতে পারবেন এর ব্যবহারকারীরা। পরে নির্ধারিত সময়ে ব্যবহারকারীকে, তার পছন্দের গন্ধের মাধ্যমে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলবে সেন্সরওয়েক।

সেন্সরওয়েক নামের এই ঘড়িটি তৈরি করেছেন গুলিয়মে রোলান্ড নামের এক ফরাসী কিশোর। এটি তৈরির পেছনের কারণ হিসেবে রোলান্ড জানান, তিনি সকাল পছন্দ করেন না। এমনটা হয়তো আরও অনেকেই মনে করেন। তার প্রমাণ, ২০১৫ সালের শুরুতে কিকস্টার্টার ক্যাম্পেইন-এর মাধ্যমে আইডিয়াটির ২ লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ।

কিন্তু প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল-ও যে একই ধারায় বিশ্বাসী, তা হয়তো অনেকেরই অজানা। প্রমাণ? আলোচিত এই সেন্সরওয়েক ‘গুগল সাকসেস ইঞ্জিন প্রোগ্রাম’-এর একটি অংশ। ভিন্ন ধারার এই অ্যালার্ম ঘড়িটি ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সফলভাবে মানুষকে জাগাতে সক্ষম বলে দাবি করেছেন এর নির্মাতা।

এখনও বাজারে আসেনি সেন্সরওয়েক, বর্তমানে এর উৎপাদন চলছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগ্যাজেট। ঘড়িটিতে নানা ধরনের সুগন্ধ যুক্ত করতে সুইস সুগন্ধী উৎপাদক শিভোদান-এর সঙ্গেও চুক্তিতে এসেছে সেন্সরওয়েক। চলতি বছরের মে মাসে বাজারে আসবে ঘড়িটি। সিইএস উপলক্ষ্যে বিশেষ প্রি-অর্ডারের মাধ্যমে ৮৯ ডলারে এবং বাজারে আসার পর ১০৯ ডলারের বিনিময়ে ঘড়িটি কিনতে পারবেন আগ্রহী ক্রেতারা।

Monday, January 4, 2016

ডিম আগে নাকি মুরগি আগে?


ডিম আগে নাকি মুরগি আগে? এই প্রশ্নটি নিয়ে আমরা সবাই ছোটবেলায় অনেক মজা করেছি। কিন্তু বিষয়টি মজার হলেও রীতিমত গবেষণারও বটে। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনেক বিজ্ঞানীরই মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত একটি সমাধানে এসে দাঁড়িয়েছেন তারা। তবুও অনেকেই তাদের উত্তর মানতে নারাজ। কেউ ডিমের পক্ষে যুক্তি দাড় করায় তো কেউ মুরগির পক্ষে। কারো যুক্তিকেই সেভাবে খণ্ডন করা যায় না। তো আসুন দেখি বিজ্ঞান এ ব্যাপারে কী বলে?


  

মুরগির পক্ষে যুক্তিঃ


বিজ্ঞান বলে একমাত্র মুরগির শরীরের ভিতরে থাকলেই ডিমের অস্তিত্ব সম্ভব। ওভোক্লেডিডিন-17 নামক একটি প্রোটিন ডিমের খোসা তৈরি হতে সাহায্য করে। কুসুমের বৃদ্ধি ও নতুন মুরগির জন্ম হতে এই খোসা ও ফ্লুইড খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রোটিনের ক্যালসিয়াম কার্বোনেটকে ক্যালসাইট ক্রিস্টালে পরিণত করে যা ডিমের খোসার তৈরি করে। অনেক প্রাণীর শরীরের হাড়ের মধ্যেও ক্যালসাইট ক্রিস্টাল পাওয়া যায়। কিন্তু মুরগির শরীর যে কোনো প্রাণীর থেকে এই ক্রিস্টাল বেশি তাড়াতাড়ি তৈরি করে। তাই মুরগিই ডিমের আগে এসেছে।

ডিমের পক্ষে যুক্তিঃ

 ডিমের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা চলে গিয়েছেন সৃষ্টির আদিতে। সৃষ্টির প্রথমে পৃথিবীতে এত প্রাণী ছিল না, আস্তে আস্তে নতুন সব প্রাণের আবির্ভাব হয়েছে। যে কোনো প্রাণীতেই যে কোনো সময় মিউটেশন বা জিনগত রদবদল হতে পারে, এটা মানুষের ক্ষেত্রেও অনেক সময় হয়ে থাকে। মুরগি আসলে আগে কোনো পাখি অথবা সরীসৃপ ছিল। এবং সেই পাখি অথবা সরীসৃপের ডিমে ঘটে যাওয়া হঠাৎ মিউটেশন বা জিনগত রদবদল ফলে সৃষ্টি হয়েছিল আদিম পাখিদের এবং যে কোনো প্রাণী পরিবেশের মাধ্যমে আকার আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। তাই প্রথম অবস্থায় যে মুরগি হয়েছিল তা হয়ত অন্য ধরনের ছিল। এদের দ্বারা উৎপন্ন ডিমকে যদি প্রটো-চিকেন বলা হয় তবে প্রটো-চিকেন যে ডিম পেরেছে সেই ডিম থেকেই বর্তমান মুরগির আবির্ভাব ঘটে। যেহেতু মিউটেশন শুধুমাত্র ডিম বা ভ্রুণের মধ্যেই ঘটে তাই ডিম আগে আসে, তারপর আসে মুরগি।

সঠিক উত্তরঃ


 মুরগি আগে এসেছে বললে প্রশ্ন হলো, “মোরগ ছাড়া মুরগি ডিম দিলো কীভাবে?” কিন্তু যদি ডিম আগে এসেছে বলেন তাহলে প্রটো-চিকেন দিয়ে এই যুক্তিটি খুব সহজেই খণ্ডানো যায়। তাই সবকিছু বিবেচনা করে বেশিরভাগ বিজ্ঞানীই বলেছেন যে, মুরগি নয়, ডিমই আগে এসেছে। উইকিপিডিয়া এবং ইন্সটিটিউট ফর ক্রিয়েশন রিসার্জ (ICR)ও বলছে যে ডিমই আগে এসেছে।


নিচের ভিডিও গুলি দেখলে আশাকরি সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে।





Friday, January 1, 2016

মানুষ সম্পর্কে যে বিষয়গুলী বিজ্ঞান এখনও জানতে পারেনি।


আমাদের দৈনন্দিন জীবনের যত সমস্যা তার সবকিছু আমরা বিজ্ঞান দিয়ে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করি। কিন্তু বিজ্ঞান কি সবসময় সবকিছুর ব্যাখ্যা করতে পারে? উত্তরটা হলো- না। মাঝে মাঝে বিজ্ঞানও হিমশিম খেয়ে যায় আমাদের কিছু কিছু প্রশ্নের কাছে। আজ তেমনই কিছু প্রশ্নের কথা জানবো যেগুলোর উত্তর আজও বিজ্ঞান সঠিকভাবে দিতে পারেনি।

মানুষ কেন লজ্জা পায়?

এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিজ্ঞানের কোনো স্পষ্ট উত্তর নেই। মানুষ যখন মিথ্যা বলে ধরা পড়ে তখন কেন লজা পায় এই বর্ণনা বিজ্ঞান এখনো দিতে পারেনি। কোনো কোনো বিজ্ঞানী এর উত্তর দিয়েছেন কিন্তু পরিষ্কার নয়, আর এতে অনেক ফাঁক ফোকর রয়েছে।

মানুষ কেন হাসে এবং মজা করে?

ঠিক কী কারণে মানুষ হাসে এবং মজা করে তা এখনো বিজ্ঞানের কাছে পরিষ্কার নয়। অনেক বিজ্ঞানীরা মনে করেন মানসিক চাপ কমাতে এবং সামঞ্জস্য রাখতে হাসির প্রয়োজন।

কিছু মানুষ কেন বাম হাতে লেখে?

কেউই জানে না কেন পৃথিবীর প্রায় ১০% মানুষ বাম হাত দিয়ে লেখে বা ভারী কাজ করে? অনেকে বলেন ভ্যানিশিং টুইন সিনড্রোমের কারণে এরকম হয়ে থাকে। কিন্তু সঠিক উত্তর কারো জানা নেই।

মানুষের কিছু কিছু অঙ্গে চুল আছে কেন?

বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ তাদের শরীরের প্রায় সব চুলই হারিয়েছে। কিন্তু মাথা সহ বিশেষ বিশেষ কিছু জায়গায় চুল আছে। কিন্তু কেন? এর পরিষ্কার কোনো উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি। অনেকে মনে করেন সেক্স করার সময় চুলগুলো ঘর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।

চুমু কেন যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে?

চুমু কেন যৌন উত্তেজনা সৃষ্টি করে এ বিষয়ে কেউ জানে না। মানুষের কিছু অনুমান আছে কিন্তু যুক্তিসঙ্গত কোনো কারণ এখন পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায়নি। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন এটা অনেকটা টিকার মতো, যেটা প্রাকিতিক। মানুষের মুখের লালায় এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া থাকে যা প্রায় ৮০% সব মানুষের ক্ষেত্রে সমান আর মাত্র ২০% আলাদা। চুমুর মাধ্যমে এই ব্যাকটেরিয়াগুলো এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে গিয়ে ইমিউন সিস্টেমে বল প্রয়োগ করে এবং অ্যান্টিবডি তৈরি করে। কিন্তু এটি ধারণামাত্র, এর কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই।

মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে?

ঘুমের প্রায় ২৫% সময় মানুষ স্বপ্ন দেখে। এর বেশিরভাগই অবশ্য মানুষের মনে থাকে না। কিন্তু মানুষ কেন স্বপ্ন দেখে? বিজ্ঞানীরা মনে করেন স্বপ্ন আক্ষরিক চিন্তার মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

সূর্যের তীব্র আলো দেখলে কিছু মানুষ হাঁচি দেয় কেন?

প্রায় এক তৃতীয়াংশ মানুষ সূর্যের তীব্র আলো দেখলে হাঁচি দেয়, কিন্তু বিজ্ঞান বলতে পারেনি ঠিক কেন এমনটি হয়। অনেক বিজ্ঞানী মনে করেন আলোর উদ্দীপনা ও হাঁচির নিউরোলজিকাল মিশ্রণের কারণে এমনটি হয়। এটাকে তারা নাম দিয়েছেন আঁচও সিনড্রোম।

মানুষ কেন শিল্পকর্ম তৈরি করে?

মানুষ স্বাভাবিকভাবে সুন্দর জিনিস উপভোগ করা ছাড়া বাঁচতে পারে না, যদিও তাদের তেমন কোনো প্রয়োজন নেই। বিজ্ঞানীরা মনে করেন সৌন্দর্য মানুষকে খুবই ভালো মানের প্রয়োজনীয় জিনিস তৈরিতে সাহায্য করে।

জানেন কি- চোখের জলের ইতিকথা ?

দুঃখে অথবা আনন্দে কে না কাদে? কাঁদেন আপনি,আমি সবাই। আজ চোখের পানির উৎস,গবেষনা,কিছু অজানা তথ্য আর উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাক।

উৎস ও গবেষণাঃ

চোখের পানি আসলে রক্ত থেকে আসে।উইলিয়াম ফ্রে নামে একজন বিজ্ঞানী প্রায় ১৫ বছর গবেষণা করেছেন চোখের পানি নিয়ে।গবেষণার পর তিনি বলেছেন যে চোখের পানি মুলত পানি,স্লেশা,তেল,ইলেক্ট্রোলাইট এর জটিল একটি মিশ্রণ।চক্ষু গোলকের উপরের হাড়ের খোলসের নীচে বাদামের মতো একধরনের গ্রন্থি থাকে জার নাম অশ্রু গ্রন্থি বা "লেক্রিমাল গ্ল্যান্ড"।লাটিন শব্দ "লেক্রিমা" মানে অশ্রু।গ্রন্থিতে যে তরল পদার্থ সেটাই আমাদের চোখের পানি বা কান্না।এই নালী থেকেই চোখের পানি বেরিয়ে আসে।

কিছু অজানা তথ্যঃ

১।নারীদের উপর গবেষণা করে দেখা গেছে নারীদের কান্না পুরুষদের যৌন উত্তেজনায় বাধা সৃষ্টি করে এবং টেস্টস্টেরনের মাত্রা হ্রাস করে(সায়েন্স ১ প্রকাশিত)।

২।রিসার্চ অনুসারে দেখা গেছে আবেগ ও অনুশোচনায় যাদের চোখে বেশি জল আসে তাদের মস্তিষ্কে স্টেস সেলের পরিমান হ্রাস পায় ৮০%।

৩।কান্না ৩ রকমের হয়ে থাকেঃ

ক)যা চোখ কে  পরিষ্কার রাখে এবং চোখের লুব্রিকেশন মাত্রা ঠিক রাখে।
খ)পেঁয়াজ কাটার সময় বা চোখে হটাত কিছু ঢুকলে যে কান্নার উৎপত্তি।
গ)আবেগের বশে যে কান্না।

৪।প্রচুর কাঁদার পর মানুষ যে সিধান্ত নেয় তার ৯০% কার্যকর করে থাকে।

৫।কান্নার পর এন্ড্রফিন বা গুড ফিল হরমন নির্গত হয় যা মন কে হাল্কা করে।তাই কান্নার পর এক্তু ঘুমিয়ে নিলে মন পুরো  হাল্কা হয়ে জায়।

৬।কান্নার ফলে হটাত করে স্ট্রেস সেলে করটিসেলের পজিটিভ চার্জ কমে নেগেটিভ বা সাইলেন্স হয়ে যায়।যার ফলে উক্ত বাক্তি মনে সে যা করছে তাই সঠিক।

৭।প্রচুর হতাশা বা মেজর ডিপ্রেশন থেকে কান্না ঢেউ এর মত করে ছুটে আসতে পারে।এক্ষেত্রে নিউরট্রান্সমিটার ও সেরেটনিনের মাত্রা কমে যায়।যা একটি মানসিক রোগ।

উপকারিতাঃ


১।অশ্রু চোখ কে পরিষ্কার করে।চোখ কে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে।

২।কান্না মানুষ এর সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেম কে রিলিজ দিয়ে মানসিক চাপ থেকে মুক্তি দেয়।

৩।চোখের পানিতে থাকে আইসোজাইম  যা মাত্র ৫-১০ মিনিটেই চোখের প্রায় ৯০-৯৫ ভাগ ব্যক্টেরিয়া মেরে।

৪।কান্নার প্রধান উপাদান লবন,প্রটিন এবং লাইসোজাইম যা চোখের পুষ্টি প্রদান করে এবং চোখ কে রক্ষা করে।

৫।ডাঃ ফ্রে এর মতে- দুঃখ,বেদনা,মানসিক আঘাত দেহে টক্সিন বা বিষাক্ত অনু সৃষ্টি করে আর কান্না এই বিষাক্ত অণুগুলো কে বের করে দেয়।

সতরাং যখনই মন খারাপ হবে কাঁদবেন।কান্না কখনই চেপে রাখবেন না তাতে রাগ,জেদ শুধু বাড়তেই থাকবে যা থেকে খুবই ভয়ঙ্কর অবস্থার ও সৃষ্টি হতে পারে যা কখনই কাম্য নয়। যদি জনবহুল কোন পরিবেশ থাকে তাহলে নির্জন কোন জায়গায় যান এবং মন কে হাল্কা করুন।দেখবেন কিছুক্ষন পর পরিবেশ এমনিতেই নিয়ন্ত্রণ এসে পরেছে এবং মাথা ,মন দুটোই কাজ করছে।

Tuesday, October 13, 2015

বিশ্ব কাঁপানো ১০টি ঘটনা, যার আসল রহস্য হয়তো কখনোই জানা যাবে না

চিত্রঃ বার্মুডা।

(০১)বারমুডা ট্রায়াঙ্গেলঃ

আজও  মানুষ এর রহস্য উদঘাটন করতে পারছে না, কেন এর কাছাকাছি কোন যাত্রীবাহী জাহাজ অথবা উড়োজাহাজ গেলে আর খুঁজে পাওয়া যায় না? কেন এর কাছাকাছি গেলে মানুষ সব অদ্ভুত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়? একদল গবেষক মনে করেন এই সমুদ্রের নীচে রয়েছে অন্য গ্রহের মানুষের বসবাস, তারাই এই সকল ঘটনার জন্য দায়ী। আবার অনেকে মনে করেন হয়তো কোন অদ্ভুত কারণে পৃথিবীর সাথে বাইরের কোন গ্রহের অদৃশ্য একটি দরজা সৃষ্টি হয়েছে। হয়ত এসকল জাহাজ বা প্লেন সেই অদৃশ্য দরজার ফাদে পড়ে চলে যায় অন্য কোন গ্রহে।

                          চিত্রঃ ৫১ এরিয়া



(০২) ৫১এরিয়াঃ

আমেরিকানদের চরম একটি গোপনীয় সামরিক ঘাটি। আজ পর্যন্ত কোন সাধারণ মানুষ এর পক্ষে এর ভিতরে ঢুকা সম্ভভ হয়নি। এই ঘাটির আসল কাজ কি সেটা জানতে চেয়েও আজও মেলেনি আমেরিকান সরকারের কাছে এর সঠিক উত্তর। এই ব্যাপরটি নিয়ে কোন প্রশ্ন এলেই সবাই এড়িয়ে যায়। প্রায় মাঝে মাঝেই অদ্ভূত সব আকাশযান দেখতে পাওয়া যায় এই ঘাটির কাছাকাছি। পৃথিবীর কোন আকাশযানের সাথে এর কোন প্রকার মিল নেই। অপরিচিত কাউকে দেখা মাত্রই গুলি করা হবে এরকম নির্দেশ ঝোলানো আছে এই ঘাটির চারপাশে। ভিতরে কি আছে বা কি হচ্ছে এর ভিতরে, কোনভাবেই অন্য কোন মানুষর এর পক্ষে তা জানা সম্ভব নয়। অনেকে ধারণা করে যে এলিয়েনরা পৃথিবীর সাথে নিয়মিত যোগযোগ করেছে। নিয়মিত তারা আসছে পৃথিবীতে। আর তাদের সেই আস্তানা হলো এই এরিয়া ৫১ পৃথিবীর মানুষরা যাতে ভুলেও কোন কিছু দেখতে বা জানতে না পারে সেজন্যই এত গোপনীয়তা রাখা হয় এখানে।
চিত্রঃ ১৯৬৯ সালে চাঁদে যাবার নমুনা

(০৩) ১৯৬৯ সালে মানুষের চাঁদে পদার্পন:

এটি বহু পুরানো একটি আলোচনা। সালটি ছিল ১৯৬৯ এটি ছিল পৃথিবীর জন্য একটি সপ্নের বছর। সপ্নকে সত্য করার বছর। এই দিন পৃথিবীর মানুষেরা প্রথম ছাদে তার পদধূলী রাখে। চাঁদ কে জয় করে অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে মানুষ। তখন অনেকে এর বিরোধিতা করেন। তারা বলেন ১৯৬৯ সালে মানুষ চাঁদকে জয় করতে সক্ষম হয়নি। তারা কারন হিসাবে বলে তখনকার যেসকল প্রযুক্তি ছিল তা দিয়ে চাঁদে যাওয়া সম্পূর্ণভাবে অসম্ভব। তারা মনে করেন মার্কিনীরা তখন সম্পূর্ণ ঘটনাটি শুটিং করে মানুষদের সামনে তুলে ধরেন এবং তাদের এও ধারনা যে স্ট্যানলি কুবরিক ছিলেন এর পরিচালক।



প্রিন্সেস ডায়ানার এএকটি ছবি।
(০৪) প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড: 

আরেকটি সব থেকে বিতর্কিত ঘটনা হল প্রিন্সেস ডায়নার হত্যাকান্ড। ১৯৯৭ সালে প্রিন্সেস ডায়না এবং তার প্রেমিক ফায়াদ এক ভয়াভহ গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়। বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন ব্রিটিশ রাজপরিবারের নির্দেশে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্হা MI6 এই দূর্ঘটনার আড়ালে এই ভয়াভহ হত্যাকান্ডটি ঘটিয়েছিলো। অনেকে মনে করেন প্রিন্সেস ডায়নার তুমুল জনপ্রিয়তা, সত্যবাদিতা এবং রাজপরিবারের সমালোচনা ব্রিটিশ রাজ পরিবারকে বিব্রত এবং অস্বস্তিকর অবস্হায় ফেলে দিয়েছিলো। আবার ফায়াদের সাথে প্রিন্সেস ডায়নার সম্পর্ক ব্রিটিশ রাজপরিবার এবং ইংল্যান্ডের জন্য জাতীয় নিরাপত্তার এক বিশাল ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছিলো, তাই হয়তো এই হত্যাকান্ডটি ঘটানো হয়েছিল।

চিত্রঃ ০০৫ সালের ৭ই জুলাই, লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন।

(০৫) ২০০৫ সালের ৭ই জুলাই, লন্ডনের সিরিজ বোমা বিস্ফোরন:

২০০৫ সালের ৭ই জুলাই শুধু মাত্র ইংল্যান্ডের জন্য নয় তথা সম্পূর্ণ বিশ্ববাসীর জন্য এটি ছিল খুবই বেদনায়ক ও ভয়াবহ একটি দিন। ভূগর্ভস্হ ট্রেনস্টেশনে পরপর কয়েকটি বিশাল ভয়াবহ সিরিজ বোমা বিস্ফোরনে সেদিন প্রাণ হারাতে হয়েছিলো অসংখ্য নিরপরাধ মানুষকে। বিভিন্ন জঙ্গি সংঘটনকে দায়ী করা হয় এই হামলার জন্য। হামলাকারীদের বিভিন্ন ফুটেজও প্রকাশ করা হয়। আসলে কে করেছিল এই হামলাটি? এটি কি তাহলে ছিলো ক্ষমতাশালী দেশগুলোর সাজানো কোন নাটক? উপরের হামলাকারীর ছবিটি দেখুন। এর নাম Mohammed Sidique Khan সে এই ঘটনার সুইসাইড হামলার একজন আসামী। বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই ছবিটি কোনভাবেই আসল হতে পারে না। জায়গাসহ সব ঠিক আছে। কিন্তু খুব সূক্ষভাবে লক্ষ্য করলে এবং পরীক্ষা করলে খেয়াল করা যাবে ছবির লোকটিকে আলাদা করে ছবিতে বসানো হয়েছে। পুরো ছবিটিই নকল। আবার অনেকে বলেন বোমগুলো হামলাকারীদের ব্যাকপ্যাক থেকে বিস্ফোরণ ঘটানো হয়নি। এগুলো আগে থেকেই সেখানে রাখা ছিলো। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকানদের সাথে যুদ্ধে নিজেদের অংশগ্রহনকে দেশবাসীর বৈধতা দেবার জন্য এই হামলা ঘটানো হয়েছিলো বলে অনেকের ধারণা।
চিত্রঃ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামিরর একটি দ্শ্য।

(০৬) ২০০৪ সালের ভারত মহাসাগরের সুনামিঃ

২০০৪ সাল এটি ছিল এশিয়ার মানুষদের জন্য খুব বেদনাদায়ক একটি দিন। এশিয়ার সমুদ্ররের পাশ্ববর্তী দেশগুলোর মানুষেরা এদিন প্রকৃতির এক ভয়াবহ ও নিষ্ঠুর খেলার বাস্তব রূপ দেখতে পায়। বিশাল আকারের এই প্রকৃতিক দুর্যোগ সুনামী আছড়ে পড়ে সমুদ্র পার্শ্ববর্তী বেশ কয়েকটি দেশে। লাখ লাখ মানুষ মারা যায় এই নিষ্ঠুর সুনামীতে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়া ও শ্রীলংকায় এই দুর্যোগে হতাহতের সংখ্যা ছিলো সবচেয়ে বেশী। বিশ্ববাসী কখনোই প্রকৃতির এই নিষ্ঠুর ও ভয়াবহ রূপ ভুলতে পারবে না। কিন্তু মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সংবাদপত্রের দাবী এর পিছনে বিশ্বের শক্তিশালী বেশ কয়েকটি দেশের হাত রয়েছে। গোপনীয় পারমাণবিক বোমার পরীক্ষা চালাতে গিয়ে দূর্ঘটনাক্রমে বিস্ফোরণে এই সুনামীর সৃষ্টি হয় বলে ধারণা করেন অনেকে।

চিত্রঃ HIV ভাইরাসটি ১৯৭৪ সালে WHO এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো

(০৭) HIV ভাইরাস ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো

AIDS হছে একটি মরণব্যাধি রোগ। যার চিকিৎসার উপায় এবং ঔষুধ এখন পর্যন্ত গবেষকরা আবিষ্কার করতে পারেনি। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে মরণব্যাধী রোগ হোল এটি। প্রতিবছর বিশেষ করে আফ্রিকার প্রায় প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে। Dr William Campbell Douglass প্রথমে একটি থিওরি দেন, পরে অনেক চিকিৎসক তাকে সমর্থন জানান। উনার মতে HIV ভাইরাসটি ১৯৭৪ সালে WHO এর পরিকল্পনা অনুযায়ী ল্যাবটেরীতে গবেষণা করে বানানো হয়েছিলো। বিশ্ব জনসংখ্যা কমানোর জন্য এটি বানানো হয়। পরে বিভিন্নভাবে এই ভাইরাসটি সম্পূর্ণ আফ্রিকায় ব্যাপক হারে ছড়িয়ে দেয়া হয়। আরেকদল বলে CIA অথবা KGB এই দুটির সংস্থার যেকোন একটি নিজেদের স্বার্থের জন্য এই ভাইরাসটি বানিয়েছিলো। কিন্তু কোন একটি দূর্ঘটনার কারনে সম্পূর্ণ পৃথিবীতে এটি ছড়িয়ে পড়ে।

চিত্রঃ Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না WHO

(০৮) Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না WHO: 

দাতের ক্ষয়রোধ করার জন্য পানযোগ্য পানিতে Fluoride মেশানো হয় এটা আমরা সবাই কম বেশি জানি। আবার বৈজ্ঞানিকভাবেই এটি প্রমাণিত যে এই Fluoride এর অনেক খারাপ দিকও আছে। এর বিভিন্ন রকম পার্শ্বপ্রতিকিয়া মানুষের শরীরকে বিভিন্নভাবে আক্রান্ত করে। একদল গবেষক এর ধারণা এসব জানা সত্ত্বেও WHO এই Fluoride প্রয়োগকে বাঁধা দিচ্ছে না। কারণ এর পিছনে রয়েছে বিশাল এক ব্যবসা। এর পিছনে রয়েছে বিশাল বিশাল সব ঔষুধ কোম্পানী। কারন মানুষ অসুস্হ থাকলেই তো এদের লাভ। আর মানুষ যদি অসুস্হ না থাকে তাহলে এত ঔষুধ কোম্পানী চলবে কি করে ?
চিত্রঃ ১৯৭৭ সালে হঠাৎ করেই এই মহান গায়ক Elvis Presley মারা যান

(০৯) আসলেই কি Elvis Presley তার মৃত্যু নিয়ে নাটক করেছিল?

এক কালের বিখ্যাত ও তুমুল জনপ্রিয় গায়ক Elvis Presley এর নাম শুনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। বিশ্বজুড়ে তার রয়েছে অগণিত ভক্ত। এখনও মানুষ তার গান শুনে যায় এবং পছন্দ করে। বিখ্যাত এই গায়ক তরুণ বয়সেই জনপ্রিয়তার এক বিশাল রাজ্যে প্রবেশ করে। ১৯৭৭ সালে হঠাৎ করেই এই মহান গায়ক মারা যান। একদলের দাবী সেই সময় নাকি আসলেই Elvis মারা যাননি। তিনি নিজের মৃত্যু ঘটিয়ে সবার থেকে আড়ালে চলে যান। অনেকে নাকি এরপরও তাকে দেখেছেন! তার আসল মৃত্যু নাকি হয় ১৯৯০ সালে। আসলেই কি Elvis Presley তার মৃত্যু নিয়ে নাটক করেছিল?


(১০) ২০১২ রহস্যঃ

সবথেকে বড় ঘটনাটি ঘটে ২০১২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে এই গুজব নিয়ে। তখন অনেকে অবশ্য হেসেই উড়িয়ে দিয়েছে এই ব্যাপারটিকে। কিন্তু এর পক্ষের লোকর অভাব ও কিন্তু কম ছিল না। প্রচুর মানুষ বিশ্বাস করেছিল ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে এই পৃথিবীর বুকে। মায়ানদের ক্যালেন্ডারের সমাপ্তি এবং নষ্ট্রাডমাস এর কিছু ভবিষ্যৎবাণীর কারণে আগুন এর এই বিশ্বাস ছড়িয়ে পড়েছিল সমগ্র বিশ্বে। আমি নিজেও বিশ্বাস করেছিলাম হয়তো ধ্বংস হবে না কিন্তু বিশাল এক পরিবর্তন আসবে পৃথিবীর উপর এই সময়ে। কিন্তু সব কল্পনা, ভবিষ্যৎবাণীকে মিথ্যা প্রমান করে পৃথিবী আজও চিরজীবী হয়ে রয়েছে।